- ২০ জানুয়ারি, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হুমকির প্রেক্ষাপটে ডেনমার্ক স্বশাসিত এই আর্কটিক ভূখণ্ডে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে। সোমবার সন্ধ্যায় ডেনিশ সেনাবাহিনীর প্রধান পিটার বয়েসেনের নেতৃত্বে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সেনাসদস্য পশ্চিম গ্রিনল্যান্ডের কানগারলুসুয়াকে পৌঁছান।
ডেনমার্কের গণমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, নতুন করে ৫৮ জন ডেনিশ সেনা সেখানে অবতরণ করেছেন। তারা এর আগে পাঠানো প্রায় ৬০ জন সেনার সঙ্গে যোগ দিয়ে বহুজাতিক সামরিক মহড়া ‘অপারেশন আর্কটিক এন্ড্যুরেন্স’-এ অংশ নিচ্ছেন। তবে এ বিষয়ে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
এই সেনা মোতায়েনের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করতে অস্বীকৃতি জানান। যুক্তরাষ্ট্রের একটি টেলিভিশন চ্যানেলে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি কোনো জবাব না দিয়ে বলেন, “এ বিষয়ে মন্তব্য নেই।”
গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ উল্লেখ করে ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনার দাবি জানিয়ে আসছেন। সম্প্রতি নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো এক বার্তায় তিনি ইঙ্গিত দেন, নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ায় তিনি আর শুধু শান্তির কথা ভাবতে বাধ্য নন—যা ইউরোপজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ডেনমার্ক অবশ্য স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির প্রশ্নই ওঠে না। যদিও সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর বিষয়ে কূটনৈতিক আলোচনায় তারা আগ্রহী। কোপেনহেগেন সতর্ক করে বলেছে, বলপ্রয়োগের মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ড দখলের চেষ্টা হলে তা ন্যাটোর ভবিষ্যৎই প্রশ্নের মুখে ফেলবে।
এ পরিস্থিতিতে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার এবং গ্রিনল্যান্ডে সম্ভাব্য যৌথ ন্যাটো মিশন নিয়ে আলোচনা হয়। রুটে বলেন, আর্কটিক অঞ্চল সমগ্র জোটের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
একই সঙ্গে ট্রাম্পের সম্ভাব্য শুল্ক আরোপের হুমকি ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্কেও চাপ সৃষ্টি করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন জরুরি বৈঠকের ডাক দিয়েছে এবং প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর বাণিজ্যিক ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।
ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডার লেয়েন জানিয়েছেন, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য অপরিহার্য। তবে নিরাপত্তা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, গত বছর পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, গ্রিনল্যান্ডের ৮৫ শতাংশ বাসিন্দা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হতে চান না। মাত্র ৬ শতাংশ মানুষ এ বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।