Monday, January 19, 2026

রাবাতের উত্তপ্ত রাতে বিতর্ক ছাপিয়ে আফ্রিকার সেরা সেনেগাল


ছবিঃ সেনেগাল খেলোয়াড়রা রোববার আফ্রিকা কাপ অব নেশনস (এএফসিএন) জয়ের পর উদযাপন করছেন। (সংগৃহীত । সিএনএন । ফ্র্যাঙ্ক ফাইফ/এএফপিএ/গেটি ইমেজেস)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

উত্তেজনা, বিশৃঙ্খলা ও নাটকীয়তায় ভরা ফাইনালে স্বাগতিক মরক্কোকে হারিয়ে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের শিরোপা জিতেছে সেনেগাল। অতিরিক্ত সময়ে করা একমাত্র গোলে ১–০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে তারা।

মরক্কোর প্রিন্স মুলাই আবদেল্লাহ স্টেডিয়ামে নির্ধারিত সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে ঘটে যায় বড় বিতর্ক। ভিএআর পর্যালোচনার পর মরক্কোর পক্ষে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেওয়া হলে তীব্র প্রতিবাদ জানায় সেনেগাল দল। একপর্যায়ে কোচ পাপে বুনা থিয়াউয়ের নির্দেশে খেলোয়াড়রা মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে গেলে খেলা দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে। পরে দলের অধিনায়ক ও অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড সাদিও মানে এর অনুরোধে তারা মাঠে ফিরে আসে।

ফের মাঠে নেমে পেনাল্টি নিতে এগিয়ে যান মরক্কোর তারকা মিডফিল্ডার ব্রাহিম দিয়াজ। কিন্তু তার নেওয়া চিপ শট সহজেই ধরে ফেলেন সেনেগালের গোলরক্ষক এদুয়ার মেন্দি। এই পেনাল্টি নষ্ট হওয়ার মধ্য দিয়েই ম্যাচের গতি বদলে যায়।

অতিরিক্ত সময়ের চতুর্থ মিনিটে আসে নির্ধারক মুহূর্ত। মাঝমাঠে বল দখল করে আক্রমণ গড়ে তোলেন সাদিও মানে। ইদ্রিসা গানা গেয়ের পাস পেয়ে বক্সে ঢুকে দুর্দান্ত শটে জাল কাঁপান পাপে গেয়ু। মরক্কোর অধিনায়ক আশরাফ হাকিমিকে পাশ কাটিয়ে নেওয়া সেই শট ঠেকাতে পারেননি গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনু।

এর আগে ম্যাচে সেনেগালের একটি গোল বাতিল হওয়া নিয়েও ক্ষোভ তৈরি হয়। কর্নার থেকে হেডে বল পোস্টে লেগে ফিরলে রিবাউন্ডে জালে পাঠান ইসমাইলা সার। তবে ফাউলের সিদ্ধান্তে গোলটি বাতিল করা হয়, যা সেনেগাল শিবিরকে আরও ক্ষুব্ধ করে তোলে।

পরাজয়ে হতাশায় ভেঙে পড়ে মরক্কো দল। শেষ দিকে নাইয়েফ আগের্দের হেড ক্রসবারে লেগে ফিরলে স্বাগতিকদের সমতায় ফেরার শেষ সুযোগটিও নষ্ট হয়। ঠান্ডা ও ভেজা রাতে অনেক দর্শক শেষ বাঁশির আগেই স্টেডিয়াম ছাড়েন।

এই জয়ে তিন আসরের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো আফ্রিকা কাপের শিরোপা ঘরে তুলল সেনেগাল। ২০২২ সালে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এটি তাদের আরেকটি ঐতিহাসিক সাফল্য। অন্যদিকে মরক্কোর শিরোপা খরা কাটল না—প্রায় অর্ধশতাব্দী আগে জয়ের পর আবারও হতাশায় শেষ হলো তাদের অভিযান।

ম্যাচ শেষে বিজয়ী গোলদাতা পাপে গেয়ু বলেন, “এটা খুব কঠিন ম্যাচ ছিল। আমরা শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছি এবং সেটাই আমাদের জয় এনে দিয়েছে।” মরক্কোর কোচ ওয়ালিদ রেগরাগুই বলেন, শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি পাওয়া সত্ত্বেও শিরোপা হাতছাড়া হওয়া দেশের মানুষের জন্য ভীষণ কষ্টের।

বিতর্কিত ঘটনাগুলোর কারণে রেফারিং সিদ্ধান্ত, সেনেগাল দলের আচরণ এবং আয়োজকদের ব্যবস্থাপনা নিয়ে পরবর্তী সময়ে তদন্ত হতে পারে বলে জানা গেছে। তবে সব নাটক ছাপিয়ে শেষ পর্যন্ত ট্রফি উঠেছে সেনেগালের হাতেই।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন