- ০৯ এপ্রিল, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী রাষ্ট্র সংস্কারের গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারকে চাপে রাখতে নতুন করে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক কর্মসূচির দিকে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য। সংসদের ভেতরে প্রতিবাদ ও ওয়াকআউটের পর এবার রাজপথে ধারাবাহিক কর্মসূচি জোরদারের পরিকল্পনা নিয়েছে জোটটি।
জোটের নেতারা জানিয়েছেন, সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশের পাশাপাশি জনমত গঠনে সভা-সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, লিফলেট বিতরণ এবং গণসংযোগ কর্মসূচি চালানো হবে। রাজধানীতে অনুষ্ঠিত লিয়াজোঁ কমিটির এক বৈঠকে এ কর্মসূচির প্রাথমিক রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
জামায়াতের এক নেতা জানান, আন্দোলনকে শান্তিপূর্ণ রেখেই গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জনগণের কাছে তুলে ধরা হবে। এ লক্ষ্যে দেশব্যাপী ধারাবাহিক কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকার সংস্কার বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
জোটের আরেক শীর্ষ নেতা বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যে রায় দিয়েছে, তা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে। তাদের দাবি, রাষ্ট্র সংস্কারসংক্রান্ত বিষয়গুলো দ্রুত কার্যকর করতে হবে এবং সরকারের কর্মকাণ্ড জনগণের সামনে স্পষ্ট করতে হবে।
এদিকে, ৪ এপ্রিলের একটি সমাবেশ থেকে জোটের পক্ষ থেকে রাজপথে থাকার ঘোষণা দেওয়া হয়। পরে ৭ এপ্রিল থেকে সাত দিনের কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে গণসংযোগ, বিক্ষোভ এবং প্রচার কার্যক্রম।
বিরোধী দলীয় সূত্রগুলো বলছে, সংসদে একাধিক প্রস্তাব উত্থাপন করা হলেও সেগুলোর কার্যকর অগ্রগতি না হওয়ায় তারা রাজপথে চাপ সৃষ্টির কৌশল নিয়েছে। তাদের অভিযোগ, সরকার বিকল্প প্রস্তাব এনে মূল দাবিগুলোকে আড়াল করার চেষ্টা করছে।
এদিকে, ১১-দলীয় জোটের বাইরে থেকেও কয়েকটি রাজনৈতিক দল আলাদাভাবে কর্মসূচি দিচ্ছে। জামায়াতের ছাত্রসংগঠনসহ বিভিন্ন সংগঠন ইতোমধ্যে সেমিনার ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে। পাশাপাশি কিছু দল পৃথকভাবে সমাবেশ ও মিছিলের ঘোষণা দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদের অচলাবস্থা ও সংস্কার বাস্তবায়নে ধীরগতির প্রেক্ষাপটে বিরোধী দল রাজপথে সক্রিয় হওয়ার কৌশল নিয়েছে। এতে আগামী দিনে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত গণভোটে রাষ্ট্র সংস্কারসংক্রান্ত প্রস্তাবগুলোতে ব্যাপক সমর্থন পাওয়া যায়। তবে সেই রায় বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক অচলাবস্থা এখনো কাটেনি।