- ০৯ এপ্রিল, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
চলতি বছর থেকেই ভারত থেকে ২০০টি ব্রডগেজ রেল কোচ দেশে আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সরকার। ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়নে এই কোচগুলো সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
বৃহস্পতিবার সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি জানান, প্রকল্প অনুযায়ী ২০২৬ সালের জুন থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এসব কোচ ধাপে ধাপে বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে যুক্ত হবে। কোচগুলো হাতে পাওয়ার পর যাত্রী চাহিদা অনুযায়ী নতুন ট্রেন চালু ও রুট নির্ধারণ করা হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে দেশে মোট রেলপথের দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার। এর মধ্যে মিটারগেজ, ব্রডগেজ ও ডুয়ালগেজ লাইন রয়েছে। রেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নতুন ব্রডগেজ ও ডুয়ালগেজ লাইন নির্মাণের কাজও চলমান আছে।
তিনি জানান, ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বর্তমানে ১৫টি আন্তনগর ট্রেন চলাচল করছে। নতুন কোচ যুক্ত হলে উত্তরাঞ্চলে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা যাত্রীসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
রেলপথ উন্নয়নের পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও ২৬০টি ব্রডগেজ কোচ, ৪৬টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ এবং ৫০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। এর মাধ্যমে যাত্রী পরিবহন ও পণ্য পরিবহনে সক্ষমতা বাড়িয়ে রেলের আয় বৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন কিছু উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। শিগগিরই এসি বাস ও মিনিবাসের ভাড়া তালিকা নির্ধারণ করে গণপরিবহনের ভেতরে ডিজিটাল ডিসপ্লেতে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে।
এছাড়া, দেশের গণপরিবহনে জিপিএস প্রযুক্তি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে যানবাহনের গতি ও অবস্থান পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। এতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, অনিয়মিত যাত্রী ওঠানামা এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের মতো সমস্যাগুলো নিয়ন্ত্রণে আনা সহজ হবে বলে আশা করছে সরকার।
সংসদে জানানো হয়, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ইতোমধ্যে বেশ কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সব মিলিয়ে, রেল ও সড়ক খাতে সরকারের এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের পরিবহন ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।