- ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের শেষ চার মাসে কার্যত কোনো কাজ করতে পারেননি বলে অভিযোগ করেছেন মাহফুজ আলম। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
‘রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও গণভোটের প্রাসঙ্গিকতা’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে রাষ্ট্রকল্প লাইব্রেরি নামের একটি প্ল্যাটফর্ম। সেখানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মাহফুজ আলম বলেন, পুরোনো মিডিয়া কাঠামোর পরিবর্তে নতুন ধারার মিডিয়া গড়ে তোলার চেষ্টা করায় তাকে মন্ত্রণালয়ের কাজে কার্যকরভাবে যুক্ত থাকতে দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, তথ্য মন্ত্রণালয়ে প্রকৃত পরিবর্তন আনতে গেলে শুধু প্রশাসন নয়, মিডিয়ায় বিনিয়োগকারী শক্তিশালী গোষ্ঠী ও পুঁজির প্রভাবও মোকাবিলা করতে হয়। এ ক্ষেত্রে তিনি অভিযোগ করেন, যাঁরা আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়ে আবারও প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করতে পারেন, তাঁদের উপস্থিতিতে সংস্কার কার্যকর করা অত্যন্ত কঠিন।
মাহফুজ আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, গণ–অভ্যুত্থানের পর কয়েকটি নতুন গণমাধ্যম আত্মপ্রকাশ করে তরুণ সমাজ ও জুলাই আন্দোলনের পক্ষে কাজ শুরু করেছিল। এতে পুরোনো ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে অস্বস্তি ও আতঙ্ক তৈরি হয়। তবে এই নতুন উদ্যোগগুলোকে টেকসইভাবে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
নিজের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, রাষ্ট্রের অন্যান্য অঙ্গের সমর্থন ছাড়া এককভাবে সাহসী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। যাদের বিরুদ্ধে দালালি বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে, তারা যদি আইনি সুযোগ নিয়ে আগের মতোই সক্রিয় থাকতে পারে, তাহলে সেই দায় একা তথ্য মন্ত্রণালয়ের ওপর চাপানো ঠিক নয়।
তিনি আরও বলেন, মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের নামে পত্রিকা বা চ্যানেল বন্ধ করা তার লক্ষ্য ছিল না। বরং বিকল্প ও স্বাধীন নতুন গণমাধ্যম গড়ে তোলার চিন্তাই ছিল তার অবস্থান। কিন্তু সে প্রচেষ্টায় কার্যত বাধা এসেছে।
রাষ্ট্রের নতুন বন্দোবস্ত ও পুনর্গঠনের প্রশ্নে মাহফুজ আলম বলেন, পুরোনো কাঠামোর মানুষদের রেখেই প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব নয়। তার মতে, সাহসী অবস্থান না নিতে পারার কারণেই কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়িত হয়নি এবং ক্ষমতার কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা যায়নি।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি নতুন একটি রাজনৈতিক দল নিয়ে নিজের হতাশার কথাও জানান। তার মতে, যে রাজনৈতিক শক্তিকে ঘিরে মানুষের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তারা একটি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার ফলে তিনি এখন তাদের সঙ্গে যুক্ত নন। তবে ভবিষ্যৎ রাজনীতি নির্ধারণে অতীতের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করা জরুরি বলেও তিনি মত দেন।
আলোচনা সভায় তার বক্তব্য ঘিরে উপস্থিত শিক্ষার্থী ও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।