- ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মধ্যে নির্বাচনী আসন সমঝোতা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আসন বণ্টন নিয়ে মতবিরোধের কারণে এই জটিলতা দেখা দিয়েছে বলে দলীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামী বাকি ১০টি দলের সঙ্গে আসন সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত করলেও ইসলামী আন্দোলন ও খেলাফত মজলিস তাদের প্রাপ্ত আসনের সংখ্যা নিয়ে সন্তুষ্ট নয়। ফলে শেষ মুহূর্তে জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত রাজধানীর রামপুরার একটি মাদ্রাসায় ইসলামী আন্দোলনের শুরা কাউন্সিলের রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতার বিভিন্ন দিক নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। রাত দেড়টা পর্যন্ত চলা ওই বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি এখন দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম মজলিসে আমেলার ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। আজ বুধবার জোহরের নামাজের পর ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, ইসলামী আন্দোলন শুরুতে শতাধিক আসনে নির্বাচন করতে আগ্রহী ছিল। পরে আলোচনার মাধ্যমে তারা দাবি কমিয়ে সর্বশেষ ৫০টির বেশি আসনের কথা তোলে। তবে জামায়াত তাদের জন্য সর্বোচ্চ ৪০টি আসন ছাড় দিতে রাজি, যা ইসলামী আন্দোলনের অনেক নেতা মেনে নিতে পারছেন না।
অন্যদিকে আল্লামা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২৫ থেকে ৩০টি আসনে ছাড় চাইলেও জামায়াত সর্বোচ্চ ২০টি আসনের প্রস্তাব দিয়েছে। কাঙ্ক্ষিত সংখ্যক আসন না পেলে কিছু আসনে প্রার্থী উন্মুক্ত রাখার চিন্তাও করছে দলটি।
জোটের ভেতরের নেতারা বলছেন, ‘ওয়ান বক্স’ নীতির মাধ্যমে এক আসনে একজন প্রার্থী দেওয়ার যে পরিকল্পনা করা হয়েছিল, সেটি নিয়েও মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি জামায়াত এককভাবে কিছু রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করায় অন্য শরিক দলগুলো নিজেদের উপেক্ষিত মনে করছে।
ইসলামী আন্দোলনের একাধিক নেতা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াতের কিছু রাজনৈতিক অবস্থান দ্বিচারিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা জোটের আস্থাকে দুর্বল করেছে। তবে দলটির চূড়ান্ত অবস্থান নির্ভর করছে আমির চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের সিদ্ধান্তের ওপর।
এদিকে খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ বলেছেন, জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে ইসলামী আন্দোলন যদি জোট থেকে সরে দাঁড়ায়, তাহলে তাদের দলকেও জোটে থাকার বিষয়টি নতুন করে ভাবতে হবে।
অন্যদিকে জামায়াতের নেতারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে শেষ পর্যন্ত সমঝোতার মাধ্যমে সব দল একসঙ্গে নির্বাচনে থাকবে। আজ বিকেলে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ১১ দলের আসন সমঝোতা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে। সেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হতে পারে।
উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে ইসলামপন্থী দলগুলোর এই আসন সমঝোতা রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।