- ০১ জুন, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। মুন্সীগঞ্জ
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় নদী থেকে উদ্ধার হওয়া গৃহবধূ হালিমা আক্তার হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটির দাবি, পূর্বপরিকল্পিতভাবে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় ২২ বছর বয়সী এই গৃহবধূকে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রোববার সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে পিবিআইয়ের কর্মকর্তারা জানান, গ্রেফতার ব্যক্তিরা আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৯ মে গজারিয়ার ফুলদী নদীর একটি শাখা নদী থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের অবস্থা খারাপ থাকায় প্রথমে তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
নিহত হালিমা আক্তার উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়নের জামলদী গ্রামের বাসিন্দা। ঘটনার পর তার বোন বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে নেমে পিবিআই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে চারজন সন্দেহভাজনকে আটক করে।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন আবু কালাম, জামাল হোসেন, রাসেল মিয়া ও আলামিন প্রধান। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থনৈতিক লেনদেন ও ব্যক্তিগত সম্পর্কজনিত কারণে অভিযুক্তদের মধ্যে হালিমাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা তৈরি হয়।
পিবিআই জানায়, ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ আগে কয়েকজন অভিযুক্ত একটি গোপন বৈঠকে মিলিত হয়ে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরে পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৬ মে সন্ধ্যায় হালিমাকে কৌশলে নির্জন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে তাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের পর গলায় কাপড় পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়।
হত্যার পর ঘটনাটি আড়াল করতে মরদেহের হাত-পা বেঁধে নদীতে ফেলে দেওয়া হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এর মাধ্যমে আলামত নষ্ট এবং পরিচয় গোপনের চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও মনে করছে তদন্তকারী সংস্থা।
সংবাদ সম্মেলনে পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আছমা আরা বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সমন্বিত তদন্তের মাধ্যমে স্বল্প সময়ের মধ্যেই মামলার গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া গেছে। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতেও গ্রেফতার ব্যক্তিরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
তিনি জানান, মামলার তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে এবং ঘটনার অন্যান্য দিকও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।