- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
গাজীপুর জেলা কারাগারে টাকার বিনিময়ে অন্যের হয়ে জেল খাটার চেষ্টার অভিযোগে আদালতে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) বন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে গাজীপুর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা করেন।
মামলায় দু’জনকে আসামি করা হয়েছে—গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মোথাজুরী তালচালা গ্রামের ছাত্তার মিয়া (৪৫) এবং তার পরিবর্তে জেলে যাওয়া একই গ্রামের সাইফুল ইসলাম (৩০)। আদালত সূত্র জানায়, বন আইনের একটি মামলায় ছাত্তার মিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল। ৭ ডিসেম্বর গাজীপুর জজ আদালতে আইনজীবী শ্যামল সরকার ছাত্তার মিয়ার পক্ষে আত্মসমর্পণের আবেদন করেন। আদালত আবেদন খারিজ করে তাকে কারাগারে পাঠান।
কিন্তু পরদিন ৮ ডিসেম্বর গাজীপুর জেলা কারাগারে নেওয়ার পর আঙুলের ছাপ ও আইরিস পরীক্ষায় বেরিয়ে আসে, ‘ছাত্তার মিয়া’ নামে হাজির হওয়া ব্যক্তি আসলে সাইফুল ইসলাম। জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী তার প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর কারা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আদালতকে জানায়।
বাদীর অভিযোগে বলা হয়, প্রকৃত আসামির পরিচয় গোপন করে অন্যকে আদালতে হাজির করা দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় গুরুতর অপরাধ। এ ঘটনায় ছাত্তার মিয়া, সাইফুল ইসলাম এবং সংশ্লিষ্ট অজ্ঞাত সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, জালিয়াতি ও পরিচয় গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে ছাত্তার মিয়ার পক্ষে কাজ করা আইনজীবী শ্যামল সরকারকে কেন এমন ঘটনা ঘটল—তার ব্যাখ্যা দিতে সাত দিনের শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
গাজীপুর বন আদালতের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জুয়েল রানা জানান, মামলা গ্রহণ করে বিচারক সংশ্লিষ্ট থানায় এআইআর করার নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে জেলা কারাগারের জেল সুপার মোহাম্মদ রফিকুল কাদের বলেন, বায়োমেট্রিক পরীক্ষায় ভুয়া পরিচয় ধরা পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই আদালতকে জানানো হয়।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের মধ্যে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, ভবিষ্যতে এমন প্রতারণা ঠেকাতে কারাগার ও আদালত উভয় পর্যায়ে নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে।