- ০৭ মে, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
হলিউডের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র সিরিজ স্ক্রিম–এ অভিনয়ের মাধ্যমে তরুণ দর্শকের কাছে ব্যাপক পরিচিতি পাওয়া অভিনেত্রী Melissa Barrera জানিয়েছেন, গাজা যুদ্ধ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হওয়ার পর তার ক্যারিয়ারে বড় ধরনের ধাক্কা লাগে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি সেই সময়ের অভিজ্ঞতা, ইন্ডাস্ট্রিতে ‘ব্ল্যাকলিস্ট’ হওয়ার অভিযোগ এবং বর্তমান অবস্থান নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন।
২০২৩ সালের শেষ দিকে গাজায় ইসরায়েলি হামলার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে নিয়মিত পোস্ট করতে থাকেন বারেরা। তিনি যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান, মানবাধিকার সংগঠনের তহবিল সংগ্রহের তথ্য শেয়ার করেন এবং ইসরায়েলি সরকারের সমালোচনাও করেন।
এরপরই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান স্পাইগ্লাস মিডিয়া গ্রুপ তাকে স্ক্রিম ৭ থেকে বাদ দেয়। একই সময় তার ট্যালেন্ট এজেন্সি ডব্লিউএমই-এর সঙ্গেও চুক্তি বাতিল হয়। প্রায় এক বছর তিনি নতুন কোনো কাজের প্রস্তাব পাননি বলে দাবি করেন।
তবে স্পাইগ্লাসের পক্ষ থেকে তখন জানানো হয়েছিল, তারা যেকোনো ধরনের বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। যদিও বারেরা এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, তিনি মানবাধিকার ও শান্তির পক্ষে কথা বলেছেন এবং জনগণ ও সরকারের মধ্যে পার্থক্য বোঝা জরুরি।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কাজ হারানোর পর মানসিকভাবে কঠিন সময় পার করেছেন। দীর্ঘদিন কাজ না পাওয়া তাকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেয়। মেক্সিকোতে বেড়ে ওঠা এই অভিনেত্রী জানান, অভিনয়ের স্বপ্ন থাকলেও হঠাৎ তা থমকে যাওয়ায় তিনি ভেঙে পড়েছিলেন।
বর্তমানে তিনি আবার অভিনয়ে ফিরেছেন। ব্রডওয়ের মঞ্চনাটক ‘টাইটানিক’-এ অভিনয় করছেন তিনি, যেখানে রোজ চরিত্রে তাকে দেখা যাচ্ছে।
বারেরা বলেন, “আমি এখন অনেক বেশি স্থির ও শান্তিতে আছি। ব্রডওয়ে ছিল আমার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হলিউডে অনেকেই তখন তার পাশে প্রকাশ্যে দাঁড়াননি। ব্যক্তিগতভাবে সমর্থন পেলেও প্রকাশ্যে খুব কম মানুষ কথা বলেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে এই কঠিন সময় থেকে বেরিয়ে আসার ক্ষেত্রে কিছু নির্মাতা তাকে সুযোগ দিয়েছেন বলেও জানান বারেরা। তিনি বলেন, নতুন কাজের সুযোগ ধীরে ধীরে তার ক্যারিয়ারকে আবারও গড়ে তুলছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি জানান, অভিনয়ের পাশাপাশি নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা গড়ার কাজ করছেন এবং নতুন চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে অবস্থান নেওয়ার কারণে হলিউডে শিল্পীদের ওপর প্রভাব পড়ে কি না—এমন প্রশ্নে বারেরা বলেন, নারীদের ক্ষেত্রে এ ধরনের চাপ আরও বেশি অনুভূত হয় বলে তার ধারণা।
বর্তমানে তিনি এমন সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী, যারা মানবাধিকার ও ন্যায্যতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলেও সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন এই অভিনেত্রী।