- ০৯ জুন, ২০২৬
ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অন্তত ৩৭ জন নিহত এবং প্রায় ৪০০ জন আহত হয়েছেন। ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে উদ্ধারকারী দলগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে।
ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল মিন্দানাও দ্বীপের সারাংগানি প্রদেশের উপকূলের কাছাকাছি, যা সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের কিছু আগে আঘাত হানে। এতে জেনারেল স্যান্টোস শহর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে একটি বাণিজ্যিক ভবন ধসে পড়ে, যেখানে একটি গ্রোসারি স্টোরও ছিল।
উদ্ধারকারীরা ইতোমধ্যে ধ্বংসস্তূপ থেকে দুইজনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন, তবে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো অন্তত দুজন নিখোঁজ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধার দলগুলো আধুনিক স্ক্যানার ব্যবহার করেও এখনো জীবনের কোনো চিহ্ন শনাক্ত করতে পারেনি।
নিখোঁজ এক ব্যক্তির মা দিওসলিনদা ডেলুভিও কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “একজন মা হিসেবে মেনে নেওয়া খুব কঠিন যে আমার ছেলে এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আছে। আমরা চাই তাকে আজই উদ্ধার করা হোক, যাতে আমরা শান্তি পাই।”
ভূমিকম্পের পর একাধিক আফটারশক আঘাত হানে, যার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালীটি ছিল ৬.৫ মাত্রার। এতে বিভিন্ন এলাকায় ভূমিধস, ভবন ধস এবং বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার ঘটনা ঘটে। কিছু অঞ্চলে সুনামি সতর্কতাও জারি করা হয়েছিল।
জেনারেল স্যান্টোস শহরে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন এবং বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সারাংগানি প্রদেশের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসে আরও ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। দক্ষিণ কোটাবাটো, দাভাও অক্সিডেন্টাল ও বালুত দ্বীপেও প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।
ভূমিকম্পের পর কয়েকটি এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ি অঞ্চলে কিছু এলাকায় এখনো হেলিকপ্টার ছাড়া পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আফটারশকের ঝুঁকির কারণে উদ্ধারকর্মীরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছেন। অনেক রাস্তা ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ভারী যন্ত্রপাতি পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র জানিয়েছেন, জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম দ্রুততর করতে জাতীয় পর্যায়ের সব সংস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের পাশে রয়েছে।
ভূমিকম্পে জেনারেল স্যান্টোসের বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, যার ফলে বহু অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি ভবনগুলোর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও নির্ধারণে কাজ চলছে।