- ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগ বৈধ বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের একক বেঞ্চ এ বিষয়ে করা রিট আবেদন খারিজ করে দিলে বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের পথে আর কোনো আইনি প্রতিবন্ধকতা রইল না। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি চুক্তি চূড়ান্ত করতে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
তবে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় অনড় অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর সিবিএ ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। তারা এনসিটি বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদার করেছে এবং চুক্তি ঠেকাতে ধর্মঘটসহ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরের সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ রেখে সর্বাত্মক ধর্মঘট পালন করা হবে। পরদিন রোববার একই সময়ে বন্দর সংশ্লিষ্ট সব প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। রোববার বিকেলে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে এসব কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।
বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও সিবিএর সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খোকন অভিযোগ করেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচনী পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে সরকার গুরুত্বপূর্ণ বন্দর স্থাপনা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দিতে তৎপর হয়েছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসলেও সরকার তা উপেক্ষা করছে। তাঁর দাবি, এনসিটি বিদেশি কোম্পানির হাতে গেলে দেশের কৌশলগত স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে জানা গেছে, এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিট আবেদনটি হাইকোর্টের একক বেঞ্চ খারিজ করেছেন। এর আগে একই বিষয়ে হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চে বিভক্ত রায় হয়। পরে প্রধান বিচারপতির নির্দেশে বিষয়টি একক বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠানো হয়। শুনানি শেষে আদালত রিটটি অপরিপক্ব উল্লেখ করে খারিজ করেন।
রায়ে আদালত বলেন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব কাঠামোর আওতায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে করা সমঝোতা স্মারক আইনগতভাবেই সম্পন্ন হয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে ২০১৭ সালের প্রযোজ্য নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে। ওই নীতিমালায় সরাসরি নির্বাচন কিংবা দরপত্র—উভয় প্রক্রিয়ার সুযোগ রয়েছে।
রিট আবেদনকারীদের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ ও বন্দর কর্তৃপক্ষ আদালতে যুক্তি তুলে ধরে বলেছে, পুরো প্রক্রিয়াই প্রচলিত আইন ও নীতিমালার মধ্যে থেকে করা হয়েছে।
এদিকে আদালতের রায়ের পর চট্টগ্রাম বন্দরে উত্তেজনা বাড়ছে। শ্রমিক সংগঠনগুলোর ঘোষিত কর্মসূচির কারণে বন্দর কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।