Monday, January 19, 2026

এনসিপি–জামায়াত আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে, মতভেদ স্পষ্ট


প্রতীকী ছবিঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আসন সমঝোতা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তীব্র হয়েছে। এনসিপির ভেতরে এ বিষয়ে একাংশের সমর্থন থাকলেও আরেক অংশের রয়েছে প্রবল আপত্তি। সমঝোতা হবে কি না, তা আগামী এক–দুই দিনের মধ্যেই পরিষ্কার হতে পারে বলে দলীয় সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে।

এর আগে বিএনপির সঙ্গে এনসিপির আসন সমঝোতার বিষয়টি আলোচনায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়নি। এরপর থেকেই জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা তুলনামূলকভাবে ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে বলে একাধিক রাজনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।

তবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্প্রতি দেশে ফেরার পর এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব আবারও বিএনপির সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা দেখছে। দলটির নেতারা মনে করছেন, তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ হলে আসন সমঝোতা নিয়ে নতুন করে কথা বলা যেতে পারে। যদিও এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক বার্তা পাওয়া যায়নি।

এনসিপির দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে ইতিমধ্যে জামায়াতের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে একাধিক দফা আলোচনা হয়েছে। এনসিপি অন্তত ৫০টি আসনে ছাড় দাবি করেছে। তবে জামায়াতের ভেতরে এই সংখ্যাকে অতিরিক্ত মনে করা হচ্ছে। এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও শিগগিরই দুই দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে আবার বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতার প্রশ্নে এনসিপির ভেতরে বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একাংশ মনে করছে, বড় দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা ছাড়া নির্বাচনে টিকে থাকা কঠিন হবে। অন্যদিকে আরেকটি অংশ জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক বোঝাপড়াকে আদর্শগতভাবে গ্রহণযোগ্য মনে করছে না। এই বিরোধের জেরেই গতকাল এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী মীর আরশাদুল হক পদত্যাগ করেন। তিনি দলের জামায়াতবিরোধী অংশের নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

এদিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আবদুল কাদের দাবি করেছেন, এনসিপি ও জামায়াতের মধ্যে আসন সমঝোতা অনেক দূর এগিয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শুরুতে এনসিপি ৫০টি আসন চাইলেও দর-কষাকষির পর ৩০টি আসনে সমঝোতা হতে পারে এবং সে ক্ষেত্রে এনসিপি বাকি আসনগুলোতে প্রার্থী দেবে না। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানান, সব ঠিক থাকলে দ্রুতই এ সংক্রান্ত ঘোষণা আসতে পারে।

যদিও এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের কোনো নেতা এখনো প্রকাশ্যে এসব তথ্য নিশ্চিত করেননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলটির একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা বলেন, এনসিপির অনেক সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠপর্যায়ে গণসংযোগ চালিয়ে বুঝেছেন বিএনপি বা জামায়াতের মতো বড় শক্তির সঙ্গে সমঝোতা ছাড়া জয় পাওয়া কঠিন। তাই জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা যেমন চলছে, তেমনি বিএনপির সঙ্গেও যোগাযোগের পথ খোলা রাখা হচ্ছে।

অন্যদিকে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানিয়েছেন, এনসিপির সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

এই পরিস্থিতিতে চাপের মুখে পড়েছে ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’। এনসিপি, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ও বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ে গত ৭ ডিসেম্বর এই জোট গঠিত হয়। জোট গঠনের সময় বলা হয়েছিল, বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে একটি বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তারা এগোবে।

কিন্তু এখন এনসিপি ও এবি পার্টি বিএনপি ও জামায়াত দুই দিকেই সমঝোতার আলোচনা চালানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া বলেন, “বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে তৃতীয় শক্তি গড়ার যে বোঝাপড়া ছিল, তা লঙ্ঘিত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা শিগগিরই আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানাব।”


Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন