Monday, January 19, 2026

একক নির্বাচনের ঘোষণা ইসলামী আন্দোলনের, ইসলামপন্থী ভোট বিভক্ত তিন ধারায়


ছবিঃ নির্বাচনী আসন সমঝোতার বিষয়ে অবস্থান জানাতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

শেষ পর্যন্ত এককভাবে নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটি জানিয়েছে, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া ২৬৮টি সংসদীয় আসনে তারা নিজস্ব প্রার্থী দেবে এবং বাকি ৩২টি আসনে সমমনা দলের প্রার্থীদের সমর্থন জানাবে। ফলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের ৩০০ আসনেই ইসলামী আন্দোলনের উপস্থিতি থাকছে।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। দলীয় নেতারা জানান, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী ঐক্যের সঙ্গে মতপার্থক্য ও আস্থার সংকটের কারণেই তারা এককভাবে নির্বাচনের পথে হাঁটছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এর মধ্য দিয়ে ইসলামপন্থী দলগুলোর ভোট একত্র করার যে প্রচেষ্টা চলছিল, তা কার্যত ভেস্তে গেল। বর্তমানে ইসলামপন্থী রাজনীতি স্পষ্টভাবে তিনটি ভিন্ন ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে। একদিকে রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য, অন্যদিকে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, আর তৃতীয় ধারায় বিএনপির সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতায় থাকা কয়েকটি ইসলামি দল।

ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নীতি, ইনসাফ ও পারস্পরিক সম্মানের প্রশ্নে তারা বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। তাঁর ভাষায়, “জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী ঐক্যে না থাকার মূল কারণ হলো—আমরা ন্যায়সংগত আচরণ পাইনি এবং লক্ষ্য অর্জন নিয়ে আমাদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।”

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মূলত আসন বণ্টন নিয়েই ইসলামী আন্দোলন ও জামায়াতের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। ইসলামী আন্দোলনের প্রত্যাশা ছিল তুলনামূলক বেশি আসনে প্রার্থী দেওয়ার সুযোগ, অন্যদিকে জামায়াত সীমিত আসনে তাদের রাখতে চেয়েছিল। শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই বিভাজন কেবল আসন ভাগাভাগির বিষয় নয়; বরং দীর্ঘদিনের আদর্শিক পার্থক্য, নেতৃত্বের প্রশ্ন এবং পারস্পরিক অবিশ্বাসের প্রতিফলন। এর ফলে ভোটের মাঠে ইসলামপন্থী শক্তির অবস্থান দুর্বল হতে পারে এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও জটিল রূপ নিতে পারে।

এদিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইসলামী আন্দোলনের জন্য উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন ফাঁকা রাখা হয়েছিল এবং আলোচনার সুযোগও দেওয়া হয়েছিল। তবে সমঝোতা না হওয়ায় তারা এখন বিকল্প সিদ্ধান্তের পথে এগোচ্ছে।

রাজনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে ইসলামপন্থী ভোটারদের আচরণই নির্ধারণ করবে বিভক্তির প্রকৃত প্রভাব। এক বাক্সে ভোট যাওয়ার যে স্বপ্ন ছিল, তা আপাতত ভেঙে গিয়ে বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে তিন ধারার প্রতিদ্বন্দ্বিতা—যার ফলাফল নির্বাচনের দিনই স্পষ্ট হবে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন