- ১২ জানুয়ারি, ২০২৬
বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। একই দিনে দেশের সব ভোটকেন্দ্রে সংসদ সদস্য নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট গ্রহণ করা হবে। নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক ধারার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নির্বাচনের তফসিল ও প্রস্তুতির ধাপ
ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, প্রার্থীরা ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ পাবেন। এর পরদিন ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে এবং একই দিনে প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরু হবে ২২ জানুয়ারি, যা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ভোটগ্রহণের দুই দিন আগে প্রচার বন্ধ করে দেওয়ার মাধ্যমে ভোটারদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় নিশ্চিত করা হবে।
নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। কমিশন জানিয়েছে, ভোটের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে কাজ করা হচ্ছে।
ভোটার সংখ্যা ও অংশগ্রহণ
এবারের নির্বাচনে মোট ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে- পুরুষ ভোটার: ৬ কোটি ৪৮ লাখ ১৪ হাজার ৯০৭ জন
, মহিলা ভোটার: ৬ কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার জন
এছাড়া প্রায় ৩ লক্ষ প্রবাসী ভোটার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। প্রবাসীদের অংশগ্রহণকে ভোটব্যবস্থায় একটি নতুন সংযোজন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা, যা ভবিষ্যতে ভোটপ্রক্রিয়াকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে সহায়ক হতে পারে।
রাজনৈতিক মাঠ ও প্রচারণা
প্রচার শুরুর দিন থেকে প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলগুলো জনসংযোগ, সভা-সমাবেশ ও প্রচার কার্যক্রমে নামবে। নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক মাঠে ইতোমধ্যে আলোচনার তাপ বাড়ছে। দলগুলো তাদের ইশতেহার ও কর্মসূচির মাধ্যমে ভোটারদের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচন শুধু ক্ষমতা নির্ধারণের বিষয় নয়; বরং এটি ভোটার আস্থা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থার দিকনির্দেশনা দেবে।
গণভোটের গুরুত্ব
জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি একই দিনে অনুষ্ঠিত হওয়া গণভোট বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। গণভোটের মাধ্যমে জনগণের সরাসরি মতামত প্রতিফলিত হবে, যা নীতিনির্ধারণ ও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা
ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। ভোটকেন্দ্রগুলোতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং যেকোনো অনিয়ম প্রতিরোধে কড়া নজরদারির কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোট বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। বিপুল সংখ্যক ভোটার, নির্ধারিত সময়সূচি ও একযোগে গণভোট—সব মিলিয়ে এই নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নতুন অধ্যায় যোগ করতে পারে বলে আশা করছেন নাগরিক সমাজ ও পর্যবেক্ষকরা।