- ১৩ জুন, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ঘোষিত যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র ও লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, টাইর জেলার মারোকা শহরে একটি বিমান হামলায় একজন নিহত হন। একই সময় জেজিন অঞ্চলের আর-রিহান পৌরসভার মেয়র আলি বাদিয়েও ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারান।
এছাড়া নাবাতিয়ে জেলার দেইর আল-জাহরানি এলাকায় পৃথক এক বিমান হামলায় আরও দুইজন নিহত হন। ওই হামলায় একটি আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়ে যায় বলেও জানানো হয়েছে।
লেবাননের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, শুক্রবার থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননের একাধিক শহর ও গ্রামে ধারাবাহিক বিমান হামলা চালানো হয়। কিছু হামলা এমন এলাকায় হয়েছে, যা ইসরায়েলি বাহিনীর ঘোষিত তথাকথিত “ইয়েলো লাইন”-এর উত্তরে অবস্থিত।
এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননের অন্তত ২০টি শহর ও গ্রামের বাসিন্দাদের অবিলম্বে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। তাদেরকে জাজানি নদীর উত্তরে সরে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কিছু এলাকায় স্থাপনা ধ্বংসের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানায় এনএনএ।
এই সামরিক উত্তেজনা এমন সময় ঘটছে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলছে, যা আঞ্চলিক সংঘাত কমানোর লক্ষ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে লেবানন পরিস্থিতি সেই কূটনৈতিক অগ্রগতিকে জটিল করে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এক বক্তব্যে দেশটিকে “গুরুত্বপূর্ণ ও সংকটময় মোড়” এ অবস্থান করছে বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রকে অবশ্যই অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে, নতুবা দেশটি মিলিশিয়া রাজনীতির প্রভাবেই থেকে যাবে।
অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তাদের উত্তরাঞ্চলীয় মেটুলা শহরে একটি “বিপজ্জনক ড্রোন অনুপ্রবেশের” কারণে সতর্কতা জারি করা হয়েছিল, যদিও এ ঘটনায় নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ করা হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ধারাবাহিক হামলা ও পাল্টা উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে এবং বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।