Saturday, June 13, 2026

ব্যাকলগ ও চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে আন্তর্জাতিক গবেষণায় সাফল্য বাকৃবির নাহিদুজ্জামানের, পাচ্ছেন ফুল ফান্ডেড পিএইচডি


ছবিঃ নাহিদুজ্জামান (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সিজিপিএ ৩.১৫ এবং পাঁচটি ব্যাকলগ—অনেক শিক্ষার্থীর জন্য যা হতাশার কারণ হতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ভেটেরিনারি সায়েন্স অনুষদের সদ্য স্নাতক নাহিদুজ্জামান সেই বাস্তবতাকে পেছনে ফেলে গড়ে তুলেছেন নিজের গবেষণার শক্ত ভিত্তি। বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের জিনোম সিকোয়েন্সিং, জনস্বাস্থ্য গবেষণা ও বায়োইনফরমেটিকস কাজে সক্রিয়ভাবে যুক্ত।

জামালপুর জেলার প্রত্যন্ত গ্রাম দিলালেরপাড়া থেকে উঠে আসা এই তরুণ গবেষক ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটা থেকে সরাসরি ফুল ফান্ডেড পিএইচডি অফার পেয়েছেন, যা সাধারণত মাস্টার্স পর্যায়ের পর পাওয়া কঠিন একটি সুযোগ হিসেবে বিবেচিত।

নাহিদুজ্জামানের গবেষণা যাত্রা শুরু হয় ২০২৩ সালে বাকৃবির মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল ইসলামের গবেষণাগারে। তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় তিনি ব্রুসেলোসিস ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ শুরু করেন এবং পরে ধীরে ধীরে জনস্বাস্থ্য, খাদ্যবাহিত রোগজীবাণু এবং এপিডেমিওলজি বিষয়ে বিস্তৃত গবেষণায় যুক্ত হন।

পরে তিনি অধ্যাপক ড. মোছা. মিনারা খাতুনের তত্ত্বাবধানে ব্রয়লার মুরগির মাংস থেকে পাওয়া ব্যাকটেরিয়ার পূর্ণ জিনোম সিকোয়েন্সিং সম্পন্ন করেন। পাশাপাশি তিনি একাধিক জীবাণুর জিনোম ডাটাবেসে (NCBI) উন্মুক্তভাবে যুক্ত করেছেন, যা দেশের গবেষণাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক জার্নাল PLOS ONE-এ প্রকাশিত একটি র‍্যান্ডমাইজড কন্ট্রোল্ড ট্রায়াল গবেষণায় তিনি লিড রিসার্চার হিসেবে কাজ করেন। গবেষণাটিতে রাস্তার পাশের ফল ও খাবারের জীবাণু, মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব এবং ব্যাকটেরিয়াল লোডের সঙ্গে পরিপাকতন্ত্রের উপসর্গের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়।

নাহিদুজ্জামান জানান, দৈনন্দিন জীবনের বাস্তব সমস্যাকে বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণ করার আগ্রহ থেকেই তার গবেষণায় প্রবেশ। তার ভাষায়, “জনস্বাস্থ্য ও খাদ্যনিরাপত্তা আমাদের সমাজের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এই ক্ষেত্রগুলোতে প্রমাণভিত্তিক গবেষণা অত্যন্ত জরুরি।”

গবেষণার পাশাপাশি তিনি বায়োইনফরমেটিকস, প্রোগ্রামিং এবং সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টেও কাজ করছেন। বর্তমানে তিনি এপিডেমিওলজি ও মেশিন লার্নিংভিত্তিক দুটি গবেষণা টুল তৈরি করছেন, যা গবেষকদের ডেটা বিশ্লেষণ সহজ করবে। ইতিমধ্যে এসব টুলের একটি পরীক্ষামূলক সংস্করণ অনলাইনে উন্মুক্ত করা হয়েছে।

তার গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক ড. মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, জটিল বৈজ্ঞানিক সমস্যাকে বিশ্লেষণ ও সমাধানের ক্ষেত্রে নাহিদের দক্ষতা উল্লেখযোগ্য। তিনি ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় একজন গবেষক হিসেবে তাকে দেখেন।

শিক্ষাজীবনের চ্যালেঞ্জ, ব্যাকলগ এবং সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও নাহিদুজ্জামানের এই অর্জন অনেক তরুণের জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ধারাবাহিক পরিশ্রম ও গবেষণার প্রতি আগ্রহ থাকলে একাডেমিক ফলাফলের সীমাবদ্ধতাও বড় অর্জনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় না।

পিএইচডি শেষ করে দেশে ফিরে একটি বায়োটেকনোলজি ও এপিডেমিওলজি গবেষণাগার গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে তার, যেখানে দেশের জনস্বাস্থ্য ও খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে আধুনিক গবেষণা চালানো যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন