- ১৮ এপ্রিল, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
দীর্ঘ সময় ধরে দর্শক কমে যাওয়া ও বড় বাজেটের সিনেমার ব্যর্থতার কারণে চাপের মধ্যে থাকা দক্ষিণ কোরিয়ার চলচ্চিত্র শিল্পে এবার নতুন করে প্রাণ ফিরতে শুরু করেছে। চলতি বছরে একাধিক সিনেমা বক্স অফিসে ভালো সাড়া পাওয়ায় শিল্পটি ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশেষ করে সাম্প্রতিক কিছু সিনেমার শুটিং লোকেশন এখন পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে। দর্শকরা শুধু সিনেমা দেখেই থেমে থাকছেন না, বরং ছবির দৃশ্যধারণ করা স্থানগুলোতে ভিড় করছেন।
ফেব্রুয়ারিতে মুক্তি পাওয়া ‘দ্য কিংস ওয়ার্ডেন’ সিনেমাটি এই প্রবণতার অন্যতম উদাহরণ। জ্যাং হ্যাং-জুন পরিচালিত এই সিনেমার শুটিং লোকেশন গ্যাংওন প্রদেশের চংনিয়ংপো এলাকায় এখন পর্যটকদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। ঐতিহাসিকভাবে জোসন সাম্রাজ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ স্থানের সঙ্গে যুক্ত এই এলাকাটি সিনেমার মাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সিনেমাটির পর থেকে দর্শনার্থীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়েছে। বিশেষ করে ছুটির সময়গুলোতে সেখানে পর্যটকের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আশপাশের ঐতিহাসিক স্থানগুলোও এর ফলে অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হচ্ছে।
অন্যদিকে স্বল্প বাজেটের হরর চলচ্চিত্র ‘সালমকজি’ মুক্তির পরপরই লাভের মুখ দেখেছে। সিনেমাটির রহস্যময় জলাধারভিত্তিক গল্প দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। উত্তর চুংচিয়ং প্রদেশের সেই জলাধার, যা আগে থেকেই স্থানীয়ভাবে ‘ভুতুড়ে স্থান’ হিসেবে পরিচিত ছিল, এখন নতুন করে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেখানে দর্শনার্থীদের ভিড়ের ছবি ছড়িয়ে পড়ছে।
চলচ্চিত্র বিশ্লেষকেরা বলছেন, দক্ষিণ কোরিয়ার সিনেমা শিল্পে এটি একটি ইতিবাচক পরিবর্তন। কারণ সিনেমা এখন শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং স্থানীয় অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। শুটিং লোকেশনগুলো পর্যটন আকর্ষণে পরিণত হওয়ায় নতুন ব্যবসার সুযোগও তৈরি হচ্ছে।
তবে এই প্রবণতা কতদিন স্থায়ী হবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ধারাবাহিকভাবে সফল সিনেমা মুক্তি পেলে এই গতি বজায় রাখা সম্ভব হবে, অন্যথায় আগের মতোই স্থবিরতা ফিরে আসতে পারে।
সব মিলিয়ে, দীর্ঘ সময়ের মন্দা কাটিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার চলচ্চিত্র শিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর পথে রয়েছে এবং এর প্রভাব এখন পর্দার বাইরেও স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।