Friday, April 3, 2026

চাঁদ অভিযানে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দাপট, নতুন যুগে প্রবেশ করছে নাসা


ছবিঃ রকেট (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা NASA নতুন করে চাঁদ অভিযানে নামলেও এবার আগের মতো এককভাবে নয়, বরং বেসরকারি প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর নির্ভরশীল হয়ে এগোচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি হতে পারে গভীর মহাকাশ অভিযানে নাসার একক নেতৃত্বের শেষ অধ্যায়।

এই নতুন বাস্তবতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে SpaceX, যার উন্নত প্রযুক্তি ও পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট ইতোমধ্যেই মহাকাশ খাতে বড় পরিবর্তন এনেছে। পাশাপাশি প্রতিযোগিতায় রয়েছে Blue Origin–ও, যারা চাঁদে মানুষ নামানোর দৌড়ে অংশ নিয়েছে।

নাসার বর্তমান চন্দ্র কর্মসূচির শিকড় বহু বছর আগের পরিকল্পনায় নিহিত। সে সময় তৈরি হয় শক্তিশালী Space Launch System (SLS) রকেট এবং Orion spacecraft। এই রকেট ইতোমধ্যেই পরীক্ষামূলকভাবে চাঁদের কক্ষপথে উড্ডয়ন করেছে এবং বর্তমানে মানুষ বহনে ব্যবহৃত হচ্ছে।

তবে প্রকল্পটি দীর্ঘসূত্রতা, ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে সমালোচনার মুখে পড়ে। এদিকে বেসরকারি খাত দ্রুত অগ্রসর হওয়ায় নাসা নতুন কৌশল নিতে বাধ্য হয়।

চাঁদের পৃষ্ঠে নভোচারী নামানোর জন্য নাসা বেসরকারি কোম্পানির ওপর নির্ভর করছে। এ ক্ষেত্রে স্টারশিপ রকেট ব্যবহার করে ল্যান্ডার তৈরির দায়িত্ব পেয়েছে SpaceX। যদিও এই প্রকল্প বাস্তবায়নে একাধিক রকেট উৎক্ষেপণের প্রয়োজন হবে, যা চ্যালেঞ্জিং বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পরবর্তীতে Blue Origin–কেও একই ধরনের ল্যান্ডার তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০২৭ সালে কক্ষপথে মহাকাশযানগুলোর সমন্বয় পরীক্ষা এবং ২০২৮ সালে সম্ভাব্য চাঁদে অবতরণের পরিকল্পনা রয়েছে।

নাসার নতুন প্রশাসক Jared Isaacman দায়িত্ব নেওয়ার পর কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন। ব্যয়বহুল ‘গেটওয়ে’ মহাকাশ স্টেশন প্রকল্প বাতিলসহ কিছু পরিকল্পনা পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। এখন তিনি বেসরকারি খাতের সঙ্গে অংশীদারিত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন।

এদিকে, China নিজস্ব কর্মসূচির মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের এই কর্মসূচি কেবল বৈজ্ঞানিক নয়, বরং ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মহাকাশ খাতে বেসরকারি কোম্পানির উত্থান প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। চাঁদে ফেরার এই দৌড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করবে এই নতুন অংশীদারিত্ব কতটা কার্যকর হয় তার ওপর।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন