- ১৩ জুন, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
ফুটবল ইতিহাসে কিছু মুহূর্ত থাকে যা শুধুই স্কোরলাইন নয়, বরং আবেগ ও মানবিক লড়াইয়ের প্রতিচ্ছবি হয়ে থাকে। তেমনই এক অধ্যায় রচিত হলো মেক্সিকোর তারকা ফরোয়ার্ড রাউল জিমেনেজকে ঘিরে, যিনি এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর ফিরে এসে বিশ্বমঞ্চে আবারও গোল করে ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় নাড়া দিয়েছেন।
২০২০ সালের নভেম্বর মাসে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে এক ম্যাচে ওলভারহ্যাম্পটনের হয়ে খেলতে গিয়ে ভয়াবহ মাথার আঘাতে গুরুতর আহত হন জিমেনেজ। আর্সেনাল ডিফেন্ডার ডেভিড লুইজের সঙ্গে সংঘর্ষে তার মাথার খুলিতে ভাঙন ধরে এবং মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়। ঘটনাস্থলেই দীর্ঘক্ষণ চিকিৎসার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা জানান, তার অবস্থা ছিল অত্যন্ত সংকটাপন্ন।
প্রায় ছয় বছর পর সেই মৃত্যুর কাছ থেকে ফিরে আসা জিমেনেজ আবারও আলোচনায় আসেন একটি ঐতিহাসিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে। ৩৫ বছর বয়সে তিনি মেক্সিকোর জার্সিতে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নেমে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন এবং নিজের প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে তোলেন।
মেক্সিকোর রাজধানীর ঐতিহাসিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে জিমেনেজ ৬৭তম মিনিটে রবার্তো আলভারাডোর নিখুঁত ক্রস থেকে শক্তিশালী হেডে গোল করেন। গোল করার পর তিনি উচ্ছ্বাসে না মেতে আকাশের দিকে তাকিয়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রয়াত বাবাকে স্মরণ করে তিনি এই গোল উৎসর্গ করেন।
ম্যাচে ৮০ হাজারেরও বেশি দর্শকের সামনে জিমেনেজের এই আবেগঘন মুহূর্ত পুরো স্টেডিয়ামকে নীরব করে দেয় এবং পরক্ষণেই গর্জে ওঠে উল্লাসে। এটি ছিল বিশ্বকাপে তার প্রথম শুরুর একাদশে খেলা, যদিও এর আগে তিনি একাধিক আসরে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছেন।
এই গোলের মাধ্যমে জাতীয় দলের হয়ে তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ৪৬, যা তাকে মেক্সিকোর সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করে।
ম্যাচের শুরুতেই স্বাগতিক মেক্সিকো এগিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে আরও একটি গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে। তিনটি লাল কার্ডের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও মেক্সিকো শেষ পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে জয় তুলে নেয়।
তবে জয় সত্ত্বেও দলের পারফরম্যান্স নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট ছিলেন না কোচ হাভিয়ের আগুইরে। তিনি মনে করেন, দল আরও বড় ব্যবধানে জিততে পারত এবং কিছু ক্ষেত্রে আরও উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে।
সব মিলিয়ে, জিমেনেজের এই প্রত্যাবর্তনের গোল শুধু একটি ম্যাচের অংশ নয়, বরং এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে ফিরে আসা মানুষের অদম্য ইচ্ছাশক্তির প্রতীক হয়ে উঠেছে, যা বিশ্ব ফুটবলে দীর্ঘদিন মনে রাখার মতো এক আবেগঘন অধ্যায় হিসেবে স্থান করে নিল।