Wednesday, June 17, 2026

বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক অপরাধী নিনো গুয়েরেরোকে হত্যার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের


ছবিঃ ভেনেজুয়েলার কুখ্যাত অপরাধচক্র যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান (সংগৃহীত । আল জাজিরা /ডোনাল্ড ট্রাম্প, ট্রুথ সোশ্যাল-এর সৌজন্যে / রয়টার্স-এর হ্যান্ডআউট)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

ভেনেজুয়েলার কুখ্যাত অপরাধচক্র ‘ট্রেন দে আরাগুয়া’-এর শীর্ষ নেতা হেক্টর রাসেনফোর্ড গুয়েরেরো ফ্লোরেস, যিনি “নিনো গুয়েরেরো” নামে বেশি পরিচিত, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, তার নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ কমান্ড একটি “দ্রুত ও শক্তিশালী বিমান হামলা” চালিয়ে এই গ্যাং নেতাকে লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনা করে। তিনি এই সংগঠনকে বিশ্বের অন্যতম “সহিংস ও বিপজ্জনক অপরাধচক্র” হিসেবে উল্লেখ করেন।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের বরাতে জানানো হয়েছে, ভেনেজুয়েলার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় একটি এলাকায় একটি গ্যাং-সম্পর্কিত স্থাপনায় এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয় ছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।

ভেনেজুয়েলার সরকারও পৃথক এক বিবৃতিতে ফ্লোরেসের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তারা জানায়, দেশের বলিভার রাজ্যে অপরাধচক্রের সদস্যদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় তিনি নিহত হন।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, ‘ট্রেন দে আরাগুয়া’ একটি আন্তর্জাতিক অপরাধ নেটওয়ার্ক, যা মাদক পাচার, মানবপাচার এবং সহিংস অপরাধের সঙ্গে জড়িত। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র এই সংগঠনকে “বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন” হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।

অভিযানের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সামুদ্রিক ও বিমান অভিযানে এই গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে আগেও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যেখানে বহু সন্দেহভাজন নিহত হয় বলে দাবি করা হয়। তবে এসব অভিযান নিয়ে আন্তর্জাতিক আইনি মহলে “বিচারবহির্ভূত হত্যা” নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

নিনো গুয়েরেরো ২০২৩ সালে ভেনেজুয়েলার একটি কারাগার থেকে পালানোর পর থেকে পলাতক ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের আদালতেও তার বিরুদ্ধে মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে মামলা চলছিল এবং তাকে গ্রেপ্তারে অর্থ পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, এই অভিযান যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধচক্র দমনে সামরিক পদক্ষেপের বৈধতা নিয়েও বিতর্ক আরও জোরদার হতে পারে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন