- ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
দেশের ব্যাংকিং খাতে বড় অঙ্কের ঋণে খেলাপির হার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। গত বছরের জুন শেষে ৫০ কোটি টাকার বেশি ঋণের ক্ষেত্রে খেলাপির হার দাঁড়িয়েছে ৪৮ দশমিক ২০ শতাংশ, যা এক বছর আগের একই সময়ে ছিল ১৭ দশমিক ১০ শতাংশ। এ তথ্য উঠে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংক–এর প্রকাশিত ব্যাংকিং আপডেট প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিভিন্ন ঋণসীমায় শ্রেণিকরণ অনুপাত (খেলাপির হার) ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। জুন শেষে এক কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণে খেলাপির হার দাঁড়িয়েছে ১৬ শতাংশ, যা আগের বছর ছিল ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। এক কোটি এক টাকা থেকে ১০ কোটি টাকার ঋণে খেলাপির হার ২৬ দশমিক ১০ শতাংশ। ১০ কোটি এক টাকা থেকে ২০ কোটি টাকার মধ্যে এ হার ৪৫ দশমিক ৭০ শতাংশে পৌঁছেছে।
এছাড়া ২০ থেকে ৩০ কোটি টাকার ঋণে খেলাপির হার ৩৮ শতাংশ, ৩০ থেকে ৪০ কোটিতে ৪২ দশমিক ১০ শতাংশ এবং ৪০ থেকে ৫০ কোটিতে ৪৫ দশমিক ৭০ শতাংশ হয়েছে। সবশেষে ৫০ কোটির বেশি ঋণে খেলাপির হার সর্বোচ্চ ৪৮ দশমিক ২০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছর থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মধ্যে ঋণের মানের অবনতি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। বিশেষ করে বড় করপোরেট ঋণের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি দৃশ্যমান। এতে বোঝা যায়, উচ্চমূল্যের ঋণের মূল্যায়ন ও তদারকি ব্যবস্থায় দুর্বলতা থাকতে পারে অথবা বড় ঋণগ্রহীতাদের ওপর খাতভিত্তিক ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপ প্রভাব ফেলছে।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যবসা-বাণিজ্য খাতে খেলাপির হার সর্বোচ্চ ৪৪ দশমিক ৭০ শতাংশ। শিল্প ঋণে এ হার ৩৫ দশমিক ৯০ শতাংশ, কৃষি, মৎস্য ও বনায়নে ৩১ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং নির্মাণ খাতে ২৭ শতাংশ। পরিবহন খাতে খেলাপির হার ২২ দশমিক ৭০ শতাংশ। ভোক্তা ঋণে তুলনামূলক কম, ৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক ঋণে এ হার ১২ শতাংশ এবং বিবিধ খাতে ১১ দশমিক ৩০ শতাংশ।
সার্বিকভাবে গত বছরের জুন শেষে দেশে মোট খেলাপি ঋণের হার দাঁড়ায় ৩৪ দশমিক ৬০ শতাংশ, যা সেপ্টেম্বরে বেড়ে ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশে পৌঁছেছে।
ব্যাংকারদের মতে, অতীতে খেলাপি ঋণ কম দেখানোর যে প্রবণতা ছিল, বর্তমানে তা কমেছে। ফলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসছে। তাদের ধারণা, আগামী মাসগুলোতে খেলাপি ঋণের হার আরও বাড়তে পারে।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।