- ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় যেসব থানা এলাকায় ছাত্র–জনতা নিহত হয়েছেন, সেসব থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) থেকে শুরু করে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) ও ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের নামের তালিকা প্রস্তুত করছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। তালিকা চূড়ান্ত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
রোববার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ। তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে যেসব থানার আওতায় ছাত্র–জনতার প্রাণহানি ঘটেছে, সেই সব এলাকার ওসি, এসপি এবং তদূর্ধ্ব কমান্ডিং অফিসারদের দায় নির্ধারণে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে রিফাত রশিদ বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন তৎকালীন সরকারের দমন–পীড়নের মুখে গণ–অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। সেই সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করেছে। এরই মধ্যে কয়েকটি মামলার রায় হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে যারা সরাসরি দমন–পীড়নে নেতৃত্ব দিয়েছে, তাদের বিচারের আওতায় আনতে ছাত্র আন্দোলন সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—হবিগঞ্জের নেতা মাহদী হাসানকে নিঃশর্ত মুক্তি ও সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে প্রত্যাহার, জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের জন্য দায়মুক্তি দিয়ে দ্রুত অধ্যাদেশ জারি এবং অভ্যুত্থানে ভূমিকা রাখা সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের স্বীকৃতি ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
এ ছাড়া দুটি কর্মসূচির কথাও জানান রিফাত রশিদ। তিনি বলেন, ইমডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে বিচার নিশ্চিত করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে। এ সময় তিনি বলেন, “এবার কোনো টালবাহানা নয়, সরাসরি অ্যাকশন হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলামসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতা-কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।