- ১৯ জুলাই, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা এখন চরমে। সেই উন্মাদনার প্রভাব পড়েছে টিকিটের বাজারেও। ফাইনালের কয়েক ঘণ্টা আগে টিকিটের চাহিদা এতটাই বেড়েছে যে, শেষ মুহূর্তে একটি টিকিট কিনতে দর্শকদের গুনতে হচ্ছে ১০ হাজার থেকে ৬০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত।
বিশ্বকাপ শুরুর আগেই টিকিটের উচ্চমূল্য নিয়ে আলোচনা ছিল। তবে ফাইনালকে সামনে রেখে সেই দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ফিফার অফিসিয়াল টিকিটিং প্ল্যাটফর্মে শনিবার গোলপোস্টের পেছনের গ্যালারির সবচেয়ে কম দামের টিকিটের মূল্য ছিল ৬ হাজার ৪১১ দশমিক ২৫ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৮ লাখ টাকা। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ওই শ্রেণির সব টিকিট বিক্রি হয়ে যায়।
এরপর বাজারে সবচেয়ে কম দামের টিকিটও প্রায় ১০ হাজার ডলারে বিক্রি হতে শুরু করে। স্টেডিয়ামের আপার ডেকের কর্নার অংশের এসব আসনের মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ লাখ টাকা।
মাঠের আরও কাছাকাছি বসে খেলা উপভোগ করতে চাইলে খরচ করতে হচ্ছে প্রায় ১৬ হাজার ডলার। আর বিশেষ সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন হসপিটালিটি প্যাকেজের টিকিটের মূল্য পৌঁছেছে প্রায় ৬০ হাজার ডলারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭৪ লাখ টাকার সমান।
শুধু ফিফার অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্মেই নয়, টিকিট পুনর্বিক্রয় ওয়েবসাইটগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে। বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটপ্লেসে আপার ডেকের টিকিট প্রায় ১০ হাজার ডলার থেকে শুরু হচ্ছে। অন্যদিকে লোয়ার বোলের কিছু আসনের দাম ৩৫ হাজার ডলার পর্যন্ত উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের ফাইনালকে ঘিরে আগ্রহের অন্যতম কারণ হলো বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি লিওনেল মেসি এবং স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। একই সঙ্গে এটি মেসির সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ বলেও ধারণা করা হচ্ছে, যা দর্শকদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ফাইনালে আর্জেন্টিনার সামনে রয়েছে ইতিহাস গড়ার সুযোগ। দলটি চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি ১৯৬২ সালের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে। এর আগে ব্রাজিল ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে পরপর দুটি বিশ্বকাপ জিতে এই কীর্তি গড়েছিল।
অন্যদিকে, ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামছে স্পেন। চলতি আসরে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি ইতোমধ্যে ৮টি গোল ও ৪টি অ্যাসিস্ট করে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন। এটি তাঁর ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালও।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত মার্চে কোপা আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেনের মধ্যে ফিনালিসিমা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে ম্যাচটি বাতিল হয়। শেষ পর্যন্ত দুই পরাশক্তির সেই বহুল প্রতীক্ষিত লড়াই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আকর্ষণীয় ফাইনাল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।