- ০৮ এপ্রিল, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নতুন বিধান যুক্ত করে সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল পাস করেছে জাতীয় সংসদ। বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে কণ্ঠভোটের মাধ্যমে বিলটি অনুমোদিত হয়।
পাস হওয়া এই বিলে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশের বিষয়বস্তু অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিদ্যমান আইনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনে কোনো সত্তার সম্পূর্ণ কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা সরকারকে দেওয়া হয়েছে।
সংশোধিত আইনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত প্রমাণিত হলে সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে তাদের নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে পারবে। শুধু তালিকাভুক্ত করাই নয়, সংশ্লিষ্ট সত্তার সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করার বিধানও এতে যুক্ত হয়েছে।
এছাড়া নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের পক্ষে বা সমর্থনেঃ গণমাধ্যম, অনলাইন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা, সভা, সমাবেশ বা মিছিল আয়োজন, জনসমক্ষে বক্তব্য প্রদান । সবকিছুই আইনত নিষিদ্ধ থাকবে। বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এটি সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমনে বিদ্যমান আইনের একটি প্রয়োজনীয় সংশোধন।
তবে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বিলটি পাসের আগে আরও সময় চেয়ে আপত্তি জানান। তিনি অভিযোগ করেন, বিলের তুলনামূলক বিবরণী খুব অল্প সময় আগে তাঁদের হাতে পৌঁছেছে, ফলে তা পর্যালোচনার সুযোগ পাননি।
এ জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপত্তি উত্থাপন না করায় এই পর্যায়ে এসে তা গ্রহণের সুযোগ নেই।
আগের আইনে কোনো সংগঠনকে কেবল তালিকাভুক্ত করার সুযোগ থাকলেও তাদের সব কার্যক্রম বন্ধ করার স্পষ্ট বিধান ছিল না। নতুন সংশোধনের মাধ্যমে সেই সীমাবদ্ধতা দূর করা হয়েছে।
সংসদীয় বিশেষ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা বহু অধ্যাদেশের মধ্যে এই সংশোধনীটিও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। শেষ পর্যন্ত কোনো পরিবর্তন ছাড়াই সেটিকে আইনে রূপ দেওয়া হলো।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন এই বিধান বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।