- ০৮ এপ্রিল, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। লালমনিরহাট
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার ধবলগুড়ি সীমান্তে শুক্রবার ভোরে গুলির ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে মো. আলী হোসেন (৪৯) নামের এক বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। মৃত আলী হোসেন পেশায় একজন কৃষক এবং তার পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। তার মৃত্যুতে পরিবারের সদস্যরা গভীর শোকাহত, এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, ভোর রাতে ধবলগুড়ি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত পিলার ৮৭৪/৫ সংলগ্ন শূন্য লাইন থেকে আনুমানিক ৫০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে বিএসএফের সাতগ্রাম ক্যাম্প এলাকায় গুলির ঘটনা ঘটে। প্রথমবার রাত ২টা ৫০ মিনিটে এবং দ্বিতীয়বার ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে গুলির শব্দ শোনা যায়।
বিজিবি ও বিএসএফের ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের পর জানা যায়, বিএসএফের দাবি অনুযায়ী ৭-৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক ভারতীয় সীমান্তে প্রবেশ করে তারকাঁটা বেড়া কাটার চেষ্টা করছিল। বিএসএফ সদস্যরা তাদের বাধা দিতে সতর্কতামূলক গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে।
আলী হোসেন গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর বিএসএফ সদস্যরা তাকে ভারতের একটি হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত আব্দুল গফুরের পুত্র। স্থানীয়রা জানান, তার মৃত্যুতে পরিবারে অসহনীয় শোক নেমে এসেছে এবং স্ত্রী ও সন্তানদের আহাজারিতে এলাকায় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, নিরস্ত্র নাগরিকদের ওপর গুলি চালানো অনুতপ্তযোগ্য এবং দ্রুত বিচার ও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া সীমান্তে এমন ঘটনা রোধে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন।
বিজিবি জানিয়েছে, তারা ঘটনার বিস্তারিত যাচাই করছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যাটালিয়ন ও সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে স্পট মিটিংয়ের আয়োজন করা হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোও এই ধরনের প্রাণহানির ঘটনা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করে, পুনরাবৃত্তি রোধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক জানিয়েছেন, নিহতের লাশ বর্তমানে ভারতে রয়েছে এবং তা ফেরত আনার জন্য পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্ত এলাকা দীর্ঘদিন ধরে চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে থাকে। প্রায়ই গুলির ঘটনা ও প্রাণহানির মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে, যা সীমান্তবাসীর জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।