- ০৭ মে, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
দেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে প্রশাসনিক জটিলতা ও ধীরগতির কার্যক্রম অন্যতম প্রধান প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি জানান, বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বুধবার সকালে রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘দ্য কম্পাস ডায়লগ’ শীর্ষক সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। কৌশল ও রণনীতি গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইএসটিআর) আয়োজিত এ সংলাপে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, ব্যবসায়ী ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, বিনিয়োগকারীরা দ্রুত সেবা ও সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা করলেও সরকারি সংস্থাগুলোর ধীরগতির কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। এতে বিনিয়োগ পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা হতাশ হয়ে পড়ছেন।
তিনি আরও বলেন, দেশে ব্যবসা-বিনিয়োগের পরিবেশ এখনও প্রত্যাশিত মানে পৌঁছায়নি। তবে সরকার আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সামষ্টিক অর্থনীতি শক্তিশালী করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সামাজিক সুরক্ষা ও কৃষিভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে দাবি করেন তিনি।
জ্বালানি খাতের প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস ও তেল অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। এ খাতে অচিরেই দরপত্র আহ্বান করা হবে বলেও জানান তিনি।
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার গুরুত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি আগের তুলনায় উন্নত হলেও এখনও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা গেলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি সহজ হবে।
এ ছাড়া তিনি বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানেও সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।