- ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাস করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলের তিন স্তরের নীতিনির্ধারণী পর্ষদ কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা, কর্মপরিষদ ও নির্বাহী পরিষদ এ সদস্যসংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নেতারা বলছেন, নতুন কাঠামোয় প্রবীণ ও নবীন নেতৃত্বের সমন্বয় ঘটিয়ে সংগঠনকে আরও সক্রিয় ও বিস্তৃত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
পুনর্গঠনের গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নায়েবে আমিরের সংখ্যা তিন থেকে বাড়িয়ে চার করা। এ তালিকায় এ টি এম আজহারুল ইসলামকে এক নম্বরে রাখা হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দীর্ঘ সময় কারাবন্দী থাকার পর মুক্তি পেয়ে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে রংপুর-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। গত ২৩ নভেম্বর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার অধিবেশনে তাঁকে নায়েবে আমির করা হয়।
বর্তমানে দলের আমির হিসেবে টানা তৃতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালন করছেন শফিকুর রহমান। সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে আবারও মনোনীত হয়েছেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, আমির সেক্রেটারি জেনারেল মনোনয়ন দেন।
২১ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে দুজন নতুন মুখ যুক্ত হয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি মোহাম্মদ রেজাউল করিম। সদস্যসংখ্যা ১৯ থেকে বাড়িয়ে ২১ করা হয়েছে। তবে বরাবরের মতো এবারও নির্বাহী পরিষদে কোনো নারী সদস্য রাখা হয়নি।
দলের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, মধ্যস্তরের যোগ্য নেতাদের সামনে আনার কৌশলের অংশ হিসেবেই নতুনদের যুক্ত করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্যসংখ্যা ৭১ থেকে বাড়িয়ে ৮৮ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১ জন নারী সদস্য রয়েছেন। এবার প্রথমবারের মতো নারী সদস্যদের নাম প্রকাশ করেছে দলটি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নারী সদস্যদের অধিকাংশই মহিলা বিভাগ ও ইসলামী ছাত্রী সংস্থার সাবেক নেত্রী।
দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে দলকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই কেন্দ্রীয় কমিটিতে নতুন মুখ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্যসংখ্যা ৩৮৪ থেকে বাড়িয়ে ৪০২ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১৯ জন নারী সদস্য রয়েছেন। তবে পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, নির্বাহী পরিষদ ও কর্মপরিষদের সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় মজলিশে শুরা।
প্রথমবারের মতো সারা দেশকে ১৪টি সাংগঠনিক অঞ্চলে ভাগ করে অঞ্চল পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পাঁচ সদস্যের একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে।
নির্বাহী পরিষদে নারী প্রতিনিধিত্ব না থাকা এবং মহিলা বিভাগের পৃথক সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। দলীয় নেতারা ধর্মীয় ও সাংগঠনিক যুক্তির কথা উল্লেখ করলেও বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিষয়টি নিয়ে বিতর্কের সুযোগ থেকে যাচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
সামগ্রিকভাবে নতুন কাঠামোয় সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধি, তরুণ নেতৃত্বের অন্তর্ভুক্তি এবং অঞ্চলভিত্তিক সংগঠন বিস্তারের মাধ্যমে দলটি সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর বার্তা দিয়েছে।