- ০২ জুলাই, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অবৈধ বালু উত্তোলন ও ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সিন্ডিকেটের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের পরিকল্পনাকারীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে রাঙ্গুনিয়ায় নিহত মাসুদের বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন হুমাম কাদের। এ সময় তাঁর সহধর্মিণী সামানজার খানও উপস্থিত ছিলেন।
হুমাম কাদেরের দাবি, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণেই মাসুদ পরিকল্পিত হামলার শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, শুধু ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের নয়, হত্যার অর্থদাতা ও পরিকল্পনাকারীদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন হলে রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়ি এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানান এই সংসদ সদস্য। পাশাপাশি রাঙ্গুনিয়ায় পুলিশি তৎপরতা জোরদার এবং একটি স্থায়ী র্যাব ক্যাম্প স্থাপনের দাবিও জানান তিনি।
হুমাম কাদের আরও বলেন, বিষয়টি তিনি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও আলোচনা করেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার আশ্বাস পাওয়া গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডির মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি নিহত মাসুদের চার বছর বয়সী কন্যার খোঁজখবর নেন হুমাম কাদের। তিনি পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। পরে মাসুদের কবর জিয়ারত করে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।
উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন রাউজানের পাহাড়তলী বাজার এলাকায় প্রকাশ্যে গুলিতে নিহত হন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের করা হত্যা মামলায় ১৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও পলাতক আসামিদের ধরতে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রহস্য উদ্ঘাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।