- ১২ জানুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর আসন সমঝোতা এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায় নতুন করে কয়েকটি দলের সঙ্গে আলোচনায় বসেছে দলটি। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এবং বাংলাদেশ লেবার পার্টির সঙ্গে আসন সমঝোতা ও রাজনৈতিক বোঝাপড়া নিয়ে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ চলছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় থাকা এসব দলের মধ্যে এনসিপি তুলনামূলক নতুন, যা গণ-অভ্যুত্থান–পরবর্তী সময়ে আত্মপ্রকাশ করেছে। অন্যদিকে এলডিপি, জেএসডি ও লেবার পার্টি দীর্ঘদিন বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়ায় তারা নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ খুঁজছে।
সূত্রগুলো বলছে, আগে থেকেই জামায়াতের সঙ্গে ছয়টি ইসলামী ও সমমনা দল ৩০০ আসনে একক প্রার্থী দেওয়ার লক্ষ্যে আলোচনা শুরু করেছিল। পরে এতে আরও দুটি দল যুক্ত হয়ে আট দলের একটি বলয় তৈরি হয়। শুরুতে আসন ভাগাভাগি নিয়ে প্রাথমিক সমঝোতা হলেও কোন দল কতটি আসন পাবে এই প্রশ্নে আলোচনায় অচলাবস্থা দেখা দেয়।
আলোচনার এক পর্যায়ে কয়েকটি দল দাবি তোলে, তাদের প্রার্থীর যোগ্যতা জামায়াতের প্রার্থীদের সমান। ফলে বিতর্কিত আসনগুলোতে নিরপেক্ষ জরিপের মাধ্যমে প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রস্তাব উঠলেও সেটি বাস্তবায়নের পর্যায়ে এগোয়নি।
এই অবস্থায় এনসিপিসহ নতুন দলগুলোর সঙ্গে জামায়াতের আলোচনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই আট দলভুক্ত কয়েকটির মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, নতুন করে দল যুক্ত হলে আসন ছাড়ের চাপ আরও বাড়বে। অতীত অভিজ্ঞতা নিয়েও তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছে।
তবে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, আসন সমঝোতা নিয়ে বড় কোনো সংকট নেই। কেউ জোট ভাঙতে চায় না। আলোচনার মাধ্যমেই বিষয়গুলো মীমাংসা হবে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, এনসিপি ইস্যুতে নতুন কোনো সংকট তৈরি হয়নি। তবে দীর্ঘদিনেও আলোচনা কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে না পৌঁছানোয় ক্ষোভ জমেছে। তিনি জানান, সব আসনে একক প্রার্থী দেওয়ার চেষ্টা চলবে, তবে প্রয়োজনে কিছু আসন উন্মুক্ত রাখা হতে পারে।
এদিকে জামায়াত সূত্র জানায়, এলডিপি ও লেবার পার্টির পাশাপাশি জেএসডির সঙ্গেও যোগাযোগ হয়েছে। বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার পর এসব দল নতুন জোট বা সমঝোতার পথে হাঁটছে। যদিও জেএসডি ও লেবার পার্টির নেতারা প্রকাশ্যে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানাননি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিরোধী ও সমমনা দলগুলোর মধ্যে আসন সমঝোতা যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, ততই অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন বাড়ছে। শেষ পর্যন্ত বৃহত্তর জোট গঠন হবে, নাকি আলাদা আলাদা পথেই হাঁটবে দলগুলো তা নির্ভর করছে চলমান আলোচনার ফলাফলের ওপর।