Wednesday, March 4, 2026

আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাইল বিএফআইইউ


ফাইল ছবিঃ আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার ব্যাংক হিসাবসংক্রান্ত তথ্য তলব করেছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। সোমবার সংস্থাটির পক্ষ থেকে দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এ বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে আসিফ মাহমুদের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে বিএফআইইউতে পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এর তিন দিন পর, ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। সে সময় আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্র প্রতিনিধিদের মধ্য থেকে তিনজনকে উপদেষ্টা করা হয়। তাঁদের একজন ছিলেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। দায়িত্ব পালনকালে তিনি প্রথমে শ্রম মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। পরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর তিনি উপদেষ্টার পদ থেকে সরে দাঁড়ান। বর্তমানে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আসিফ মাহমুদ বলেন, তাঁর জানামতে তিনি ছাড়াও আরও তিনজন সাবেক উপদেষ্টার হিসাব তলব করা হয়েছে। তবে অন্যদের পরিচয় সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত নন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এভাবে বিষয়টি প্রকাশ করা আইনসম্মত হয়েছে কি না। একই সঙ্গে তিনি জানান, স্বচ্ছতার স্বার্থে নিজেই ব্যাংক স্টেটমেন্ট জনসমক্ষে প্রকাশ করবেন।

মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, উপদেষ্টার পদ ছাড়ার আগেই আয়-সম্পদের হিসাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিয়েছেন এবং পরদিন তিনি নিজ উদ্যোগে ব্যাংক বিবরণী উন্মুক্ত করবেন।

উল্লেখ্য, গত ১০ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকার উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। সেখানে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী আসিফ মাহমুদের মোট সম্পদের পরিমাণ ১৫ লাখ ৩৪ হাজার ৭১৭ টাকা এবং দায় রয়েছে ২৮ হাজার ৬৬৯ টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তাঁর টিআইএন না থাকার কথাও বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়।

বিএফআইইউর এ পদক্ষেপের পেছনে কী কারণ রয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবেই এ তথ্য তলব করা হয়ে থাকতে পারে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন