- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে বিএনপির জন্য ‘টিকে থাকার লড়াই’ আখ্যা দিয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে সম্পূর্ণভাবে জয়লাভ করতেই হবে। তিনি দাবি করেন, দেশবাসী পরিবর্তন চায় এবং সেই পরিবর্তনের নেতৃত্ব দেবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে বিজয়ের মাস উপলক্ষে আয়োজিত ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। বিভাগীয় সাংগঠনিক ইউনিটগুলোর হাজারের বেশি নেতা-কর্মী এতে অংশ নেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, “তারেক রহমান খুব শিগগির দেশে আসবেন। যেদিন তিনি বাংলাদেশে পা রাখবেন, সেদিন সারা বাংলাদেশ কেঁপে উঠবে। বিএনপি সেই দিনটিকে পরিবর্তনের সূচক হিসেবে দেখতে চায়।”
বিএনপির মহাসচিব বলেন, দলটির বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার ও বাধা থাকলেও বিএনপি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে এবং সামনে এগিয়ে যেতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, “বিএনপি এ দেশের জনগণের দল। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও জাতীয়তাবাদী দর্শনই বিএনপিকে সফলতার দিকে নিয়ে যাবে।”
মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, এ নির্বাচন কোনোভাবেই অতীতের মতো হতে দেওয়া যাবে না।
তিনি বলেন, “এই নির্বাচন আওয়ামী লীগের আমলের নির্বাচন নয়। সত্যিকার অর্থে নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে হবে। জনগণের ভালোবাসা অর্জন করে, মানুষের মন জয় করে বিএনপিকে বিজয়ী হতে হবে।”
মনোনয়ন নিয়ে দলের ভেতরে আলোচনা চললেও তিনি বলেন, এখন কে মনোনয়ন পেলেন বা পেলেন না—তা নিয়ে চিন্তার সময় নয়। “জনগণের কাছে বিএনপি কী দেবে, সেটাই এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”
তরুণদের সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, বিএনপিই দেশে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের ভিত্তি তৈরি করেছে। তিনি জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং খালেদা জিয়ার সময় শিক্ষা ও অর্থনীতিতে উন্নয়নের উদাহরণ তুলে ধরেন।
দলের টানা সংগ্রামের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “বিএনপির সাড়ে ১৫ বছরের লড়াই এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। এই লড়াইয়ের মধ্য দিয়েই বিএনপিকে সরকার গঠন করাতে হবে।” তিনি জানান, তারেক রহমান দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য একটি বিস্তৃত পরিকল্পনা দিয়েছেন, যা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে ধানের শীষ বিজয়ী হবে।
তিনি সতর্ক করেন, “পেছনে যেন কোনো অন্ধকার শক্তি আবার মাথাচাড়া দিয়ে না ওঠে। ধর্ম কিংবা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেশে অন্য কোনো শক্তি আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করলে বিএনপির কর্মীদের রুখে দাঁড়াতে হবে।” ইভেন্টে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। উপস্থিত ছিলেন মাহদী আমিন, আমিনুল হক, শায়রুল কবির খানসহ নেতারা।
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষক কার্ড, কর্মসংস্থান, ক্রীড়া উন্নয়নসহ আটটি বিষয়ে দলের অঙ্গসংগঠনগুলোর জন্য কর্মশালা চলছে। ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত এসব কর্মসূচি চলবে। পরে একটি পৃথক দিনে হবে সমাপনী অনুষ্ঠান।