Thursday, July 23, 2026

যুক্তরাষ্ট্রে তদন্তের মুখে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তাপিয়া


ছবিঃ আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

বিশ্বকাপের ফাইনাল শেষে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিল আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল। কিন্তু নিউইয়র্ক ছাড়ার ঠিক আগমুহূর্তে অপ্রত্যাশিত এক ঘটনায় আলোচনায় উঠে এসেছে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ চলমান একটি তদন্তের অংশ হিসেবে এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া ও নির্বাহী কর্মকর্তা পাবলো তোভিগিনোর মোবাইল ফোন জব্দ করেছে। এ ঘটনায় দলের চার্টার ফ্লাইটও প্রায় দুই ঘণ্টা বিলম্বে ছেড়ে যায়।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বোর্ডিংয়ের আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা তাপিয়া ও তোভিগিনোর সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)-এর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

বিমানবন্দরে উপস্থিত এক প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা দলের প্রতিনিধিদল যখন বিমানে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন ফেডারেল কর্মকর্তারা একটি বাসের ভেতরে প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে তাপিয়া ও তোভিগিনোকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এরপর তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

জানা গেছে, আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক চুক্তি, স্পনসরশিপ এবং আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত একটি তদন্তের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ৩০ জুলাই ফ্লোরিডার একটি ফেডারেল আদালতে উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্যও ক্লদিও তাপিয়াকে তলব করা হয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ফ্লোরিডাভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের স্পনসরশিপ, প্রীতি ম্যাচ আয়োজন এবং সম্প্রচারস্বত্বের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। অভিযোগ রয়েছে, জাতীয় দলের বিভিন্ন স্পনসরের কাছ থেকে পাওয়া কয়েক মিলিয়ন ডলারের অর্থ ওই প্রতিষ্ঠানের মিয়ামিভিত্তিক ব্যাংক হিসাবে জমা হলেও তার পুরো হিসাব এএফএর আর্থিক নথিতে প্রতিফলিত হয়নি।

এ ছাড়া তদন্তে উঠে এসেছে, প্রতিষ্ঠানটি কয়েক বছরে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে। এর মধ্যে প্রায় ৪০ মিলিয়ন ডলার এমন কিছু প্রতিষ্ঠানের কাছে স্থানান্তর করা হয়েছে, যাদের প্রকৃত ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিয়ে তদন্তকারীদের প্রশ্ন রয়েছে।

এই তদন্তের সূত্রপাত হয় আর্জেন্টাইন ব্যবসায়ী গিয়ের্মো তোফোনির দায়ের করা একটি প্রতারণা মামলার মাধ্যমে। তার অভিযোগ, ২০৩০ সাল পর্যন্ত আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের প্রীতি ম্যাচ আয়োজনসংক্রান্ত একটি চুক্তি একতরফাভাবে বাতিল করা হয়েছিল, যা আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়েছে।

তবে পুরো বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। এ পর্যন্ত আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি। এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়াও গণমাধ্যমের সামনে কোনো মন্তব্য করেননি।

এদিকে তদন্ত চলমান থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো আদালত ক্লদিও তাপিয়া, আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—এমন কোনো রায় দেননি। ফলে বিষয়টির চূড়ান্ত আইনি নিষ্পত্তির আগ পর্যন্ত অভিযোগগুলো তদন্তাধীন হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন