Monday, March 2, 2026

যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল হামলায় সীমিত সমর্থন, জরিপে বিভক্ত মার্কিন জনমত


ছবিঃ ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নিন্দা জানিয়ে বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের Lincoln Memorial-এর সামনে, Washington, DC-এ প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদ করছেন। (সংগৃহীত । আল জাজিরা । এএফপি)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পরপরই পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, হামলার প্রতি মার্কিন জনগণের সমর্থন খুবই সীমিত। শনিবার শুরু হয়ে রোববার শেষ হওয়া রয়টার্স-ইপসোস জরিপে অংশ নেওয়া প্রতি চারজনের মধ্যে মাত্র একজন এই সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন।

জরিপে ৪৩ শতাংশ উত্তরদাতা হামলার বিরোধিতা করেন এবং ২৯ শতাংশ বলেন তারা নিশ্চিত নন। রিপাবলিকানদের মধ্যে সমর্থন তুলনামূলক বেশি হলেও তা একপাক্ষিক নয়—৫৫ শতাংশ সমর্থন, ১৩ শতাংশ বিরোধিতা এবং ৩২ শতাংশ অনিশ্চিত মত প্রকাশ করেছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, প্রায় ৪২ শতাংশ রিপাবলিকান জানিয়েছেন, যদি এই অভিযানে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনারা হতাহত হন, তবে তারা সমর্থন কমিয়ে দিতে পারেন।

ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান আরও কঠোর; প্রায় ৭৪ শতাংশ হামলার বিরোধিতা করেছেন। স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে সমর্থন কমে যেতে পারে বলে অনেকে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার বলেন, “সব লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।” তিনি স্বীকার করেন, সংঘাতে ইতোমধ্যে তিনজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং আরও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর ট্রাম্প ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় হুমকি হিসেবে আখ্যা দেন।

তবে জরিপের ফল বলছে, সাধারণ মার্কিন ভোটারদের বড় অংশ দীর্ঘমেয়াদি সামরিক জড়িত থাকার পক্ষে নয়। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলে তা আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের অনেকেই ট্রাম্পের পাশে দাঁড়ালেও দলটির ভেতরে কিছু রক্ষণশীল কণ্ঠ সতর্কবার্তা দিচ্ছেন—যদি যুদ্ধ দ্রুত ও নির্ণায়ক সাফল্য না আনে, তাহলে জনরোষ বাড়তে পারে।

অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ভিন্নমত দেখা গেছে। কেউ কেউ হামলার প্রশংসা করলেও অনেকেই এটিকে অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি বলে সমালোচনা করেছেন। ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “যেসব মার্কিন সেনা আজ প্রাণ হারিয়েছেন, তারা আমাদের সঙ্গেই থাকার কথা ছিল। এটি একটি বেছে নেওয়া যুদ্ধ।”

ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের একটি অংশ যুদ্ধ ক্ষমতা সংক্রান্ত প্রস্তাব দ্রুত পাসের দাবি জানিয়েছেন, যাতে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া না যায়।

জরিপে প্রায় ৪৫ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে তারা এই সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করবেন। ইতোমধ্যে আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে কিছু বাণিজ্যিক রুটে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে, যা জ্বালানি বাজারে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের মানবিক ও অর্থনৈতিক মূল্য যত বাড়বে, জনমত তত দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘনিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে এই জনমত রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন