Monday, March 2, 2026

আয়াতুল্লাহ খামেনির নিহত হওয়ার জেরে পাকিস্তানজুড়ে বিক্ষোভে নিহত ২০


ছবিঃ যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের ইরানে হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর করাচি, পাকিস্তানে মার্কিন দূতাবাসের বাইরে বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে এক পুলিশ কর্মকর্তা টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করছেন, ১ মার্চ ২০২৬। (সংগৃহীত । আল জাজিরা । আখতার সুমরো/রয়টার্স)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত বিমান হামলায় তেহরানে নিহত হয়েছেন এমন ঘোষণার পর রোববার পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সহিংসতায় দেশজুড়ে অন্তত ২০ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

নিহতদের মধ্যে করাচিতে ১০ জন, গিলগিট-বালতিস্তানের স্কার্দুতে অন্তত আটজন এবং রাজধানী ইসলামাবাদে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। বেশিরভাগ বিক্ষোভে শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষ অংশ নেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। কিছু স্থানে গুলির শব্দও শোনা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

রাজধানীর ‘রেড জোন’ এলাকায় যেখানে পার্লামেন্ট, সরকারি দপ্তর ও বিভিন্ন দেশের দূতাবাস অবস্থিত হাজারো মানুষ জড়ো হন। বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেন এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের আহ্বান জানান। নারী ও শিশুসহ পাঁচ থেকে আট হাজার মানুষ রাজধানীর একটি বড় হোটেলের সামনে সমবেত হন।

কিছু বিক্ষোভকারী কূটনৈতিক এলাকায় অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে টিয়ার গ্যাস ছোড়া হয়। ইসলামাবাদের সরকারি পলি ক্লিনিক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সেখানে অন্তত দুটি মরদেহ ও ৩০ জনের বেশি আহতকে আনা হয়েছে।

সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় করাচিতে। শত শত মানুষ মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরে জড়ো হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একদল যুবক ভবনের বাইরের গেট টপকে ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। পরে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও গুলিবর্ষণ করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন নিহত ও ৬০ জন আহত হয়েছেন বলে প্রাদেশিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলী শাহ ঘটনাকে “অত্যন্ত দুঃখজনক” আখ্যা দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

শিয়া অধ্যুষিত গিলগিট-বালতিস্তানের স্কার্দু শহরে বিক্ষোভকারীরা জাতিসংঘের একটি কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করলে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিন দিনের কারফিউ জারি করা হয়েছে।

লাহোর, পেশাওয়ার, মুলতান ও ফয়সালাবাদেও বিক্ষোভ হয়েছে, যদিও এসব শহরে বড় ধরনের প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

পাকিস্তান সরকার যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যৌথ হামলার নিন্দা জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক মাধ্যমে শোক প্রকাশ করে বলেন, রাষ্ট্রপ্রধানদের লক্ষ্য করে হামলা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। তিনি ইরানের জনগণের প্রতি সমবেদনা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নকভি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না।” উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীসাইয়্যেদ আব্বাস আরাগচি-এর সঙ্গে কথা বলে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর জোর দিয়েছেন।

পাকিস্তানের জনসংখ্যা ২৫ কোটির বেশি; এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ শিয়া মুসলিম। দেশটি ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয় না এবং ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনাবলি দুই দেশের সম্পর্ক ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর নতুন করে চাপ তৈরি করেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

পরিস্থিতি এখনো থমথমে। বড় শহরগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সরকার সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন