- ১৪ এপ্রিল, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেম ও পশ্চিম তীরের ধর্মীয় স্থাপনাগুলোতে আবারও ধর্মীয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে চলাচলের ওপর থাকা বেশ কিছু বিধিনিষেধও শিথিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত ৯ এপ্রিল, যুদ্ধ শুরুর পর দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর প্রথম শুক্রবারে ১ লাখেরও বেশি মুসল্লি Al-Aqsa Mosque প্রাঙ্গণে জুমার নামাজে অংশ নেন। একই সময়ে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র স্থান Church of the Holy Sepulchre পুনরায় খুলে দেওয়া হয়, যা ইস্টার উদ্যাপনের আগে বন্ধ ছিল।
দীর্ঘদিন পর ধর্মীয় উৎসব ও প্রার্থনার পরিবেশ ফিরে এলেও পরিস্থিতি ছিল উত্তেজনাপূর্ণ। বিভিন্ন এলাকায় শক্তিশালী নিরাপত্তা উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় এবং কিছু ক্ষেত্রে ফিলিস্তিনি স্কাউটদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়নের অভিযোগ ওঠে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী কয়েকটি অনুষ্ঠানে ফিলিস্তিনি পতাকার চিহ্ন সরিয়ে দিয়েছে এবং কিছু স্কাউট সদস্যকে আটক করেছে।
এদিকে, একই সময়ে আল-আকসা প্রাঙ্গণে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী গোষ্ঠীর প্রবেশ নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির নিরাপত্তা বাহিনীর সুরক্ষায় সেখানে প্রবেশ করেন এবং ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তিনি ওই স্থান থেকে মন্তব্য করেন যে, এখন সেখানে ইহুদি উপাসনার উপস্থিতি আরও স্বাভাবিক হচ্ছে, যা দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত বিষয় হিসেবে বিবেচিত।
জর্ডান সরকার এসব ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানিয়েছে এবং পবিত্র স্থানের ঐতিহ্যবাহী অবস্থা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
অন্যদিকে গাজা উপত্যকায় পরিস্থিতি এখনও সহিংস। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিমান ও ড্রোন হামলায় একাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে সাংবাদিক ও শিশু রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে হাজার হাজার মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন এবং বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
মানবিক পরিস্থিতিও ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। চিকিৎসা ব্যবস্থা, জ্বালানি ও খাদ্য সরবরাহ সংকটে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। হাসপাতালগুলোতে বিদ্যুৎ ঘাটতি দেখা দিচ্ছে, যার ফলে গুরুতর রোগীদের চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে।
পশ্চিম তীরেও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। নতুন বসতি স্থাপন এবং সামরিক অভিযান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এবং আঞ্চলিক সংগঠন এসব পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী বলে অভিহিত করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সত্ত্বেও বাস্তবে সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি, বরং ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত উত্তেজনা আরও জটিল আকার ধারণ করছে।