- ১৫ জুন, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতি এবং একটি প্রাথমিক শান্তিচুক্তিতে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে দুই দেশের কর্মকর্তারা। এই চুক্তির অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে দ্রুত ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় এবং আন্তর্জাতিক শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়। তবে পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও আলোচনার টেবিলে রয়েছে বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের সঙ্গে চুক্তি এখন সম্পন্ন হয়েছে।” একই সময় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও জানিয়েছেন, দীর্ঘ আলোচনার পর একটি কাঠামোগত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধ করার বিষয়ে প্রাথমিক ঐকমত্য হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বিশেষ করে লেবাননকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাত বন্ধের বিষয়টি চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘাত দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক উত্তেজনার বড় কারণ হয়ে রয়েছে। এ সংঘাতে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু এবং লক্ষাধিক মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে আন্তর্জাতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, সোমবার রাত থেকে সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ থাকবে। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এই কাঠামো অনুযায়ী পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে আরও বিস্তৃত শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা হবে।
চুক্তির পর হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই প্রণালি বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত জ্বালানি পরিবহন রুট, যার বন্ধ থাকা বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছিল।
বিশ্ববাজারে ঘোষণার পরপরই ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৪ শতাংশ কমে যায়। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে এবং এশিয়া ও ইউরোপের শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়।
তবে চুক্তি পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার আগে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের শর্ত নিয়ে আরও আলোচনা বাকি রয়েছে। ইরান জানিয়েছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত নিয়ন্ত্রণ এবং পারমাণবিক সক্ষমতা সীমিত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে থাকবে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই প্রাথমিক চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও বাস্তবায়নের পথ এখনও জটিল এবং অনিশ্চিত।