- ১৫ জুন, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
ইউক্রেনে রাশিয়ার ব্যাপক হামলার ঘটনায় অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। হামলায় রাজধানী কিয়েভে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
কিয়েভে পৃথক হামলায় চারজন নিহত হন বলে জানানো হয়েছে। একই সময়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভে আগুন নেভানোর কাজ করতে গিয়ে পাঁচজন উদ্ধারকর্মী প্রাণ হারান। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেখানে একটি রুশ হামলার কারণে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়।
হামলার ফলে কিয়েভের ১১ শতকের ঐতিহাসিক ডরমিশন ক্যাথেড্রাল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এটিকে “খ্রিস্টান সংস্কৃতির বিরুদ্ধে অন্যতম বড় অপরাধ” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে রাশিয়া দাবি করেছে, তারা সরাসরি ওই ধর্মীয় স্থাপনাটিকে লক্ষ্য করেনি।
কিয়েভ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় শহরের বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবন ও যানবাহনে আগুন ধরে যায়। বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রায় দেড় লাখের বেশি মানুষ বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, একাধিক এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
খারকিভে আরও অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে রাশিয়ার তুলা শহরে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় তিনজন নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। আহতদের মধ্যে একটি এক বছরের শিশুও রয়েছে।
ইউক্রেনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাশিয়া এক রাতেই প্রায় ৭০টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৬১১টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। জেলেনস্কি জানান, এসব হামলার ফলে বহু এলাকায় আগুন লাগে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
ডরমিশন ক্যাথেড্রালটি কিয়েভ-পেচেরস্ক লাভরা ধর্মীয় কমপ্লেক্সের অংশ, যা ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃত। হামলার পর ভবনটির একাংশে বড় ধরনের গর্ত দেখা গেছে এবং ছাদে আগুন ধরে যায় বলে জানানো হয়েছে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ এই হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, “এই ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থাপনায় হামলার কোনো যৌক্তিকতা নেই।”
আগামী সপ্তাহে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিতব্য জি-৭ সম্মেলনের আগে এই হামলা নতুন করে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সম্মেলনে আরও সামরিক সহায়তা ও আকাশ প্রতিরক্ষার জন্য চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা ইউক্রেনের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে “বৃহৎ পরিসরের হামলা” চালিয়েছে। তবে ক্যাথেড্রালে ক্ষতির জন্য তারা যুক্তরাষ্ট্র-নির্মিত একটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রকে দায়ী করেছে, যদিও এর পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
২০২২ সালে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই ক্যাথেড্রাল ও আশপাশের ধর্মীয় স্থাপনাগুলো একাধিকবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।