Monday, February 23, 2026

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান পারমাণবিক সংলাপের তৃতীয় দফা বৃহস্পতিবার


ছবিঃ দ্বিতীয় দফা পারমাণবিক আলোচনা ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে সুইজারল্যান্ডের Geneva-তে শেষ হয়েছে (সংগৃহীত । আল জাজিরা । সিরিল জিনগারো/এএফপি)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

জেনেভায় নির্ধারিত নতুন দফা আলোচনার আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক সংলাপ নিয়ে সতর্ক আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, সাম্প্রতিক আলোচনা থেকে “উৎসাহব্যঞ্জক সংকেত” মিলেছে, তবে যেকোনো পরিস্থিতির জন্য তেহরান প্রস্তুত রয়েছে।

রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় পেজেশকিয়ান জানান, ইরান আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতার দিকে নজর রাখার কথাও উল্লেখ করেন। সম্প্রতি উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো এবং কোনো সমঝোতা না হলে “খুব খারাপ পরিণতি”র হুঁশিয়ারি দেওয়ায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদি নিশ্চিত করেছেন যে আগামী বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে দুই দেশের মধ্যে তৃতীয় দফা পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। তিনি জানান, চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে উভয় পক্ষ ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জনের চেষ্টা করছে।

এর আগে চলতি মাসে ওমানে আলোচনা শুরুর পর জেনেভায় দ্বিতীয় দফা বৈঠক হয়। উভয় পক্ষ আলোচনা “গঠনমূলক” বললেও কোনো বড় অগ্রগতি আসেনি।

এদিকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ প্রশ্ন তুলেছেন, চাপের মুখেও কেন ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে রাজি হচ্ছে না। মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৩ সালে ইরাক আগ্রাসনের পর এই প্রথমবারের মতো মধ্যপ্রাচ্যে এত বড় সামরিক সমাবেশ ঘটিয়েছে ওয়াশিংটন। একাধিক যুদ্ধবিমান মোতায়েনের পাশাপাশি মার্কিন রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড অঞ্চলটির দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি জাতীয় মর্যাদা ও গৌরবের বিষয়। তাঁর দাবি, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সি এর তত্ত্বাবধানে ইরানের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ রয়েছে। পরমাণু অস্ত্র বিস্তাররোধ চুক্তি (এনপিটি)-র সদস্য হিসেবে ইরান শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের অধিকার রাখে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনার পথ এখনো কঠিন। কেউ কেউ মনে করছেন, ওয়াশিংটন ও তেলআবিবের প্রত্যাশার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতান্যাহুর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক প্রভাব সীমিত করার বিষয়টিও আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র মূলত পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, যদি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়, তাহলে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। তবে উভয় পক্ষের বক্তব্যে এখনো আলোচনার দরজা খোলা রয়েছে—যা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন