Monday, February 23, 2026

যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ মিলিয়ন ডলারের মোস্ট ওয়ান্টেড ড্রাগ লর্ড এল মেনচো নিহত


ছবিঃ মেক্সিকোর বিশ্বকাপ স্টেডিয়ামের কাছে মহাসড়কে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে পুড়ে যাওয়া যানবাহন। (সংগৃহীত । আল জাজিরা)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

মেক্সিকোর নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে দেশটির অন্যতম কুখ্যাত মাদক সম্রাট নেমেসিও রুবেন ওসেগুয়েরা সার্ভান্তেস ওরফে “এল মেনচো” নিহত হয়েছেন। তাঁর মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর দেশটির একাধিক রাজ্যে সহিংসতার ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে, বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলীয় জলিস্কো অঙ্গরাজ্যে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটে।

মেক্সিকোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, রোববার জলিস্কোর তাপালপা শহরে সেনাবাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের সময় গুরুতর আহত হন ৫৯ বছর বয়সী ওসেগুয়েরা। পরে তাঁকে মেক্সিকো সিটিতে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। যুক্তরাষ্ট্র তাঁর মাথার দাম ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার ঘোষণা করেছিল।

অভিযানের পরপরই জলিস্কো, কোলিমা, মিচোয়াকান, নায়ারিত, গুয়ানাহুয়াতো ও তামাউলিপাসসহ অন্তত ছয়টি রাজ্যে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো গাড়িতে আগুন ধরিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে। জলিস্কোর রাজধানী গুয়াদালাহারা রোববার রাতে প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বিমানবন্দরে আতঙ্কিত যাত্রীদের দৌড়ঝাঁপ এবং পর্যটন শহর পুয়ের্তো ভাল্লার্তায় ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়।

জলিস্কোর গভর্নর পাবলো লেমুস বাসিন্দাদের ঘরে থাকার আহ্বান জানান এবং গণপরিবহন সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেন। কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে সোমবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়।

প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের প্রশংসা করে দেশবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, রাজ্য সরকারগুলোর সঙ্গে সমন্বয় রেখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে এবং দেশের অধিকাংশ এলাকায় স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে ওসেগুয়েরার নেতৃত্বাধীন জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেলের (সিজেএনজি) চার সদস্য নিহত হয়। আরও কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, সাঁজোয়া যান ও রকেট লঞ্চার জব্দ করা হয়েছে। অভিযানে তিনজন সেনা সদস্য আহত হয়েছেন।

ওসেগুয়েরা সাবেক পুলিশ সদস্য ও কৃষক ছিলেন। ২০০৭ সালের দিকে তিনি সিজেএনজি গঠন করেন এবং ধীরে ধীরে এটিকে মেক্সিকোর অন্যতম শক্তিশালী মাদক পাচার চক্রে পরিণত করেন। মার্কিন তদন্ত সংস্থাগুলোর মতে, কোকেন, হেরোইন, মেথঅ্যামফেটামিন ও ফেন্টানিল যুক্তরাষ্ট্রে পাচারের বড় অংশই এই সংগঠনের মাধ্যমে পরিচালিত হতো।

বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর মৃত্যুকে সরকারের বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হলেও এটি ক্ষমতার দ্বন্দ্ব উসকে দিয়ে নতুন সহিংসতার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ওসেগুয়েরার পরিবারের একাধিক সদস্য যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে বন্দি থাকায় কার্টেলের নেতৃত্ব নিয়ে অভ্যন্তরীণ সংঘাত দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা তাদের নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে। কয়েকটি আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা জলিস্কোর পুয়ের্তো ভাল্লার্তা ও গুয়াদালাহারাগামী ফ্লাইট সাময়িকভাবে বাতিল করেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু শীর্ষ নেতাকে নির্মূল করলেই মাদক চক্র ভেঙে পড়বে না। তাদের অর্থায়ন, অস্ত্র সরবরাহ ও লজিস্টিক নেটওয়ার্ক ধ্বংসে সমন্বিত ও দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে সহিংসতা আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে মাদক চাহিদা কমানো ও অস্ত্র পাচার রোধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন তারা।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন