Friday, October 2, 2026

যুক্তরাজ্যে ইরানি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক গ্রেপ্তার, বিমানঘাঁটি ঘিরে তদন্ত


ছবিঃ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ইংল্যান্ডের গ্লুচেস্টারশায়ারের ফেয়ারফোর্ডে অবস্থিত বিমানঘাঁটি ‘আরএএফ ফেয়ারফোর্ড’-এর কাছাকাছি একটি এলাকায় পুলিশ সদস্যরা পাহারায় রয়েছেন (সংগৃহীত । আল জাজিরা /টবি শেফার্ড/রয়টার্স)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | PNN

যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির কাছে সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের ঘটনায় আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তি ২৫ বছর বয়সী ব্রিটিশ-ইরানি দ্বৈত নাগরিক। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহে বৃহস্পতিবার লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টারে তাকে আটক করা হয়।

এ নিয়ে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যে মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হলো। এর আগে আটক করা পাঁচ ব্রিটিশ নাগরিককে সোমবার জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে তদন্ত চলায় তাদের চলাফেরা ও অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগের ওপর কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে।

নতুন গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে ২০০৬ সালের সন্ত্রাসবাদ আইনের ৫ নম্বর ধারায় ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি’র সন্দেহের কথা জানিয়েছে পুলিশ। অভিযোগ গঠন না হওয়া পর্যন্ত তদন্তাধীন ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ না করার নিয়ম থাকায় তার পরিচয়ও প্রকাশ করা হয়নি। একই ঘটনায় লন্ডন এলাকার দুটি স্থানে তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের পর থেকেই নতুন করে আটক করা ওই ব্যক্তির ওপর নজরদারি চলছিল। তদন্তকারীরা তাকে সম্ভাব্য নিয়োগকারী হিসেবে দেখছেন অথবা ষড়যন্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ কোনো ভূমিকা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন।

ঘটনার সূত্রপাত গত রোববার ভোরে। ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটির আশপাশে কয়েকটি ভ্যান অস্বাভাবিকভাবে পার্ক করে রাখা এবং মুখোশধারী কয়েকজন ব্যক্তির উপস্থিতির খবর পেয়ে জরুরি সেবায় ফোন করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পাঁচজনকে আটক করে। তল্লাশি চালিয়ে ভ্যানগুলোতে কোনো অস্ত্র বা বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। তবে কিছু পরিমাণ পেট্রল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ডেও ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের সময় মার্কিন বোমারু বিমানও এই ঘাঁটি ব্যবহার করেছে।

ঘটনার সঙ্গে ইরানের কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এমন কোনো বিস্তারিত প্রমাণ প্রকাশ করেনি, যার ভিত্তিতে এই যোগসূত্রের দাবি করা হচ্ছে। তবে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেছেন, ইরানের সম্পৃক্ততার বিষয়ে ‘জোরালো ইঙ্গিত’ রয়েছে এবং তদন্তটি জটিল ও গুরুতর পর্যায়ে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ঘটনাটি ইরানের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি প্রথম দফায় গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচজনকে জামিন দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও দাবি করেছেন, যুক্তরাজ্যকে সম্ভাব্য ‘ইরানি পৃষ্ঠপোষকতায় হামলা’ সম্পর্কে আগেই সতর্ক করেছিল তার সরকার। তবে ওই সতর্কবার্তা ফেয়ারফোর্ডের ঘটনাটির সঙ্গেই সম্পর্কিত ছিল কি না, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।

অন্যদিকে ইরান এ ধরনের অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভানচি ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও হাস্যকর’ বলে অভিহিত করেছেন। এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানাতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিউ শর্টারকে তলব করে।

এদিকে প্রথম দফায় গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচজনকে কেন জামিনে ছেড়ে দেওয়া হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত তদন্তে কাউকে জামিনে মুক্তি দেওয়া মানেই তদন্তের গুরুত্ব কমে যাওয়া নয়। পুলিশ মনে করে থাকতে পারে, তারা তাৎক্ষণিক কোনো নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করছে না অথবা ঘটনাটিতে তাদের ভূমিকা ছিল সীমিত কিংবা অনিচ্ছাকৃত।

যুক্তরাজ্যের সাবেক জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী নিরাপত্তা কর্মকর্তা ক্রিস ফিলিপসের মতে, প্রাথমিক সন্দেহের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়া গেলে পুলিশকে দীর্ঘ সময় আটকে রাখার সুযোগ সীমিত থাকে। আর রয়্যাল হলোওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞানী অ্যান্ড্রু সিলকের ধারণা, আটক ব্যক্তিরা ঘটনাটি সম্পর্কে না জেনেই কোনো পর্যায়ে যুক্ত হয়ে থাকতে পারেন।

তদন্তকারীরা এখন সন্দেহভাজনদের যোগাযোগ, আর্থিক লেনদেন এবং সম্ভাব্য বিদেশি যোগাযোগ খতিয়ে দেখছেন। তাদের কারও সঙ্গে বিদেশি কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার যোগাযোগ ছিল কি না, অথবা কোনো ধরনের অর্থের বিনিময়ে তাদের কাজে যুক্ত করা হয়েছিল কি না—সেসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ একই সঙ্গে ফেয়ারফোর্ডের ঘটনাটির সঙ্গে দেশটির মাটিতে অতীতে ঘটে যাওয়া বিদেশি-সমর্থিত নাশকতা বা অগ্নিসংযোগের ঘটনার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সেটিও যাচাই করছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটির প্রকৃত উদ্দেশ্য কিংবা ইরানের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন