Friday, October 2, 2026

তেলআবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইটে সহ-পাইলটের হামলা, উদ্দেশ্য নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা


ছবিঃ ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে ইসরায়েলগামী ‘ফ্লাইদুবাই’-এর যে ফ্লাইটটি সৌদি আরবে ঘুরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, তার যাত্রী ইয়ানিভ হায়ুনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু (সংগৃহীত । আল জাজিরা /হ্যান্ডআউট/জিপিও ভায়া রয়টার্স)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | PNN

দুবাই থেকে তেলআবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি যাত্রীবাহী বিমানে সহ-পাইলটের হামলার ঘটনায় কী উদ্দেশ্য ছিল, তা এখনো স্পষ্ট হয়নি। ফ্লাইট এফজেড১০৭৩-এর সহ-পাইলট ককপিটে ক্যাপ্টেনকে ছুরিকাঘাত করার পর বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারাতে শুরু করে। পরে আহত ক্যাপ্টেন ককপিটের দরজা খুলে দিতে সক্ষম হলে যাত্রী ও ক্রুরা হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। শেষ পর্যন্ত বিমানটি সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করে।

ঘটনার পর সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে। দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল-শামসি জানিয়েছেন, ঘটনার পেছনে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, কোনো সন্ত্রাসী উদ্দেশ্য কিংবা আগে থেকে পরিকল্পনার যোগসূত্র ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে না যাওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

তবে তদন্তের ফল আসার আগেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘটনাটিকে উগ্রবাদী মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত করে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, হামলাকারী ‘ইসলামপন্থী উগ্রবাদী মতাদর্শে’ প্রভাবিত ছিলেন। একই সঙ্গে ইরান বা তাদের মিত্রদের সম্পৃক্ততার সম্ভাবনার কথাও তুলেছেন তিনি। তবে এখন পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে এই ঘটনার কোনো যোগসূত্রের প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং হামলার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যও নিশ্চিত হয়নি।

ঘটনার সময় বিমানটি প্রায় ৩৩ হাজার ফুট উচ্চতায় ছিল। হামলার পর অল্প সময়ের মধ্যে সেটি প্রায় ১৭ হাজার ফুটে নেমে যায়। আহত অবস্থায় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার ককপিটের দরজা খোলার সুযোগ করে দেন। এরপর যাত্রী ও ক্রুরা সহ-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। বিমানে থাকা অন্য পাইলটরা পরে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিমানটিকে নিরাপদে তাবুকে অবতরণ করান।

ভারতীয় নাগরিক ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন ভারত ও ইসরায়েলের নেতারা। হামলার পর তিনি সৌদি আরবে চিকিৎসা নেন এবং পরবর্তী সময়ে তাকে আবুধাবিতে নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানা গেছে।

এ ঘটনায় ইসরায়েলে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইসরায়েলে যেসব পাইলট বিমান নিয়ে প্রবেশ করবেন, তাদের পরিচয় ও নিরাপত্তা যাচাই আরও জোরদার করা হবে। তবে বিদেশি বাণিজ্যিক বিমানের পাইলটদের ক্ষেত্রে নিয়মিত ব্যক্তিগত নিরাপত্তা যাচাইয়ের পরিধি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

ঘটনাটি ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আসন্ন নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহু নিরাপত্তা ও ইসরায়েলিদের ওপর সম্ভাব্য হামলার হুমকিকে গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। বিমান হামলার ঘটনাটিকেও তিনি সেই বৃহত্তর নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তুলে ধরেছেন। তবে বিরোধী নেতা ইয়ার লাপিদ এই ঘটনার সঙ্গে আগে পাওয়া নিরাপত্তা সতর্কবার্তার কোনো সরাসরি সম্পর্ক থাকার বিষয়টি নাকচ করেছেন।

ইসরায়েলের নিরাপত্তা বিশ্লেষক আহরন ব্রেগম্যান মনে করেন, তদন্তে ইরানের সঙ্গে কোনো যোগসূত্র পাওয়া গেলে ঘটনাটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনার আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। অন্যদিকে অন্য বিশ্লেষকেরা বলছেন, হামলার প্রকৃত কারণ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য নাকি অন্য কোনো বিষয় তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

এদিকে ঘটনার পর ফ্লাইদুবাই ইসরায়েলগামী ও ইসরায়েল থেকে পরিচালিত ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। বিমানটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পাইলট যাচাই প্রক্রিয়া এবং হামলার পেছনের প্রকৃত উদ্দেশ্য সবকিছু নিয়েই তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন