Friday, April 3, 2026

যুদ্ধের ধাক্কায় জ্বালানি সংকটে পাকিস্তান, অতিরিক্ত মজুত থেকে হঠাৎ ঘাটতি


ছবিঃ কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত মিলিয়ে পাকিস্তানের এলএনজি আমদানি মোটের ৯৯ শতাংশের জন্য দায়ী। (সংগৃহীত । আল জাজিরা । আরশাদ আরবাব/EPA)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে হঠাৎ করেই তীব্র জ্বালানি সংকটে পড়েছে পাকিস্তান। কয়েক মাস আগেও যেখানে দেশটিতে আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উদ্বৃত্ত ছিল, সেখানে এখন সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং সরবরাহ লাইনের বিঘ্নে এই নাটকীয় পরিবর্তন ঘটেছে।

চলতি বছরের শুরুতে পাকিস্তানে গ্যাসের চাহিদা টানা কয়েক বছর ধরে কমছিল। সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়া এবং শিল্প উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় এলএনজির ব্যবহার কমে যায়। ফলে অতিরিক্ত গ্যাস বিদেশে বিক্রি করা, এমনকি কিছু গ্যাসক্ষেত্র বন্ধ রাখার মতো সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল সরকারকে।

তবে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানালে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে কাতারের বৃহৎ গ্যাস স্থাপনাগুলোতে হামলার ঘটনায় বিশ্ববাজারে সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগে।

বিশ্বের অন্যতম বড় এলএনজি রপ্তানিকারক কাতার উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করলে পাকিস্তান সরাসরি সংকটে পড়ে। কারণ দেশটির প্রায় সব আমদানিকৃত গ্যাসই কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসে। মার্চ মাসে যেখানে সাধারণত ৮ থেকে ১২টি এলএনজি চালান আসে, সেখানে যুদ্ধ শুরুর পর মাত্র দুটি চালান পৌঁছায়।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারেও গ্যাসের দাম বেড়ে গেছে। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে এলএনজির দাম প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে আমদানি ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে, যা পাকিস্তানের অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের পরিকল্পনাগত সীমাবদ্ধতাও এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির কারণে চাহিদা কমলেও পাকিস্তানকে গ্যাস কিনতে হয়েছে, ফলে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে দেশটি। বর্তমানে গ্যাস খাতে ঋণের পরিমাণ কয়েক ট্রিলিয়ন রুপিতে পৌঁছেছে।

সংকট মোকাবিলায় সরকার এখন দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি কয়লা ও জলবিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর নির্ভরতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে এসব ব্যবস্থা পুরো ঘাটতি পূরণে যথেষ্ট হবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, সামনে গ্রীষ্ম মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়লে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। সম্ভাব্য লোডশেডিং, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এবং শিল্প খাতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

সব মিলিয়ে, অতিরিক্ত জ্বালানি মজুত থেকে অল্প সময়ের মধ্যেই ঘাটতিতে পড়ে পাকিস্তান এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে—যার বড় কারণ বৈশ্বিক সংঘাত ও জ্বালানি নির্ভরতার সীমাবদ্ধতা।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন