- ২১ এপ্রিল, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
সুদানের রাজধানী খার্তুম ও আশপাশের অঞ্চলে চলমান সংঘাতের কারণে দেশটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভয়াবহ সংকটে পড়েছে। দীর্ঘ তিন বছরের যুদ্ধের প্রভাব এখন সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবন ও চিকিৎসা সেবার ওপর পড়ছে, যেখানে সংক্রামক রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং চিকিৎসা সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
উত্তর সুদানের আবু হামাদ এলাকার সোনার খনিতে দীর্ঘদিন কাজ করা ওমর ওথমান রাজধানীতে নতুন জীবনের আশা নিয়ে এলেও অসুস্থতার কারণে তার পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। কঠিন পরিবেশে কাজ করার ফলে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং প্রথমে দীর্ঘস্থায়ী কাশি দেখা দেয়, যা পরে বুকে তীব্র ব্যথায় রূপ নেয়।
চিকিৎসা নিতে গিয়ে তিনি ওমদুরমানের একটি বিশেষায়িত সংক্রামক রোগ হাসপাতাল থেকে যক্ষ্মা (টিউবারকিউলোসিস) রোগে আক্রান্ত বলে শনাক্ত হন। চিকিৎসকরা জানান, যুদ্ধের কারণে দুর্বল হয়ে পড়া স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মধ্যে এই ধরনের সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে।
প্রথমবার হাসপাতালে চিকিৎসা সহজে পেলেও পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় ওষুধের ঘাটতি দেখা দেয়। ফলে তাকে বাইরে থেকে বেশি দামে ওষুধ কিনতে বাধ্য হতে হয়। এতে তার আর্থিক চাপ আরও বেড়ে যায়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় অনেক সময় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে না।
সুদানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতের কারণে দেশের প্রায় ৩৭ শতাংশ হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া সেনাবাহিনী ও আধা-সামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (RSF)-এর সংঘাতে এই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতে, সুদানে ইতিমধ্যে শতাধিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে বহু চিকিৎসাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন এবং লাখো মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
ওমদুরমানের ট্রপিক্যাল ডিজিজেস টিচিং হাসপাতাল একসময় গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্র হলেও এখন সীমিত সক্ষমতায় কাজ করছে। হাসপাতালটি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর আবার আংশিকভাবে চালু হলেও রোগীর চাপ অনেক বেশি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, অর্থ সংকট, অবকাঠামো ক্ষতি এবং ওষুধের ঘাটতির কারণে চিকিৎসা কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি মনোসামাজিক সেবা দেওয়ার জন্য কাউন্সেলিং সেবাও সীমিত আকারে চালু রয়েছে।
যুদ্ধের কারণে সুদানের বড় অংশে হাসপাতাল ধ্বংস, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ফলে ম্যালেরিয়া, কলেরা, ডেঙ্গু, হামের মতো রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, অপুষ্টি ও দুর্বল স্বাস্থ্য অবকাঠামোর কারণে শিশুদের মধ্যে ঝুঁকি আরও বেশি। একই সঙ্গে বাস্তুচ্যুতি ও দারিদ্র্য রোগ বিস্তারের গতি বাড়াচ্ছে।
চলমান সংঘাতের মধ্যে সুদানের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুনর্গঠন এখন বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। সীমিত সম্পদ, চিকিৎসক সংকট এবং অবকাঠামো ধ্বংস পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।