- ২১ এপ্রিল, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে রাতভর আবারও ব্যাপক হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। সাম্প্রতিক এই সহিংসতায় উভয় পক্ষই একে অপরের সামরিক ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে।
ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা (GUR) দাবি করেছে, তারা রাশিয়ার দখলকৃত ক্রিমিয়ার সেভাস্তোপোল উপসাগরে দুটি রুশ ল্যান্ডিং যুদ্ধজাহাজ এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ রাডার স্টেশনে সফলভাবে হামলা চালিয়েছে। সংস্থাটির মতে, প্রায় ১৫ কোটি ডলার মূল্যের ওই যুদ্ধজাহাজগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং রাডার সিস্টেম ধ্বংস করা হয়েছে।
অন্যদিকে রাশিয়ার পক্ষ থেকে ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। রাজধানী কিয়েভসহ খারকিভ, খেরসন, সুমি এবং জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে এসব হামলার প্রভাব পড়ে।
সুমি অঞ্চলের পুতিভল শহরে একটি গাড়িতে ড্রোন আঘাত হানলে তিনজন নারী আহত হন। একই সময় কিয়েভের ব্রোভারি এলাকায় দুটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একজন আহত হন বলে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানায়।
কিয়েভ আঞ্চলিক প্রশাসনের প্রধান জানান, রাতের বেলা আবারও ড্রোন হামলার কারণে সাধারণ মানুষের জীবন ও ঘরবাড়ি ঝুঁকির মুখে পড়ে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, রাতের হামলায় ইউক্রেনের ১১২টি ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে। তবে কিছু ড্রোন রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের তুয়াপসে বন্দরে আঘাত হানে, যেখানে একজন নিহত এবং একজন আহত হন। ওই হামলায় পরিবহন অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে আঞ্চলিক প্রশাসন জানিয়েছে। এর আগেও মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে একই বন্দরে হামলা হয়েছিল, যার ফলে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।
ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় রুশ হামলায় খেরসন অঞ্চলে একজন নিহত এবং সাতজন আহত হয়েছেন। জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে আরও চারজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। খারকিভে রেলওয়ে অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানা গেছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে রুশ হামলায় ১৫ হাজারেরও বেশি ইউক্রেনীয় বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কয়েক দফা আলোচনা হলেও এখনো যুদ্ধবিরতির কোনো সমাধান হয়নি। রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক মতবিরোধের কারণে শান্তি প্রক্রিয়া কার্যত অচল হয়ে আছে।