Wednesday, April 22, 2026

উত্তর জাপানের উপকূলে ৭.৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি


ছবিঃ জাপানের টোকিওতে একটি টেলিভিশন পর্দায় জাপান আবহাওয়া সংস্থার সুনামি সতর্কবার্তার একটি সংবাদ প্রতিবেদন দেখা যাচ্ছে, ২০ এপ্রিল, ২০২৬ (সংগৃহীত । আল জাজিরা । ইসেই কাতো/রয়টার্স)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

উত্তর জাপানের ইওয়াতে (Iwate) প্রিফেকচারের সমুদ্র উপকূলের কাছে সোমবার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৭.৫। ভূমিকম্পটির পরপরই জাপান কর্তৃপক্ষ উপকূলীয় এলাকায় সুনামি সতর্কতা জারি করে, যেখানে সর্বোচ্চ ৩ মিটার (প্রায় ১০ ফুট) উচ্চতার ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জাপান আবহাওয়া সংস্থা (JMA) জানায়, স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৫৩ মিনিটে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়, যা জিএমটি সময় অনুযায়ী সকাল ৭টা ৫৩ মিনিট। ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল সমুদ্রের গভীরে, তবে এর প্রভাব এতটাই শক্তিশালী ছিল যে রাজধানী টোকিওসহ কয়েকশ কিলোমিটার দূরের এলাকাতেও ভবন কেঁপে ওঠে।

ভূমিকম্পের পরপরই উপকূলীয় অঞ্চলে সুনামি সতর্কতা জারি করে কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় বাসিন্দাদের দ্রুত উঁচু স্থানে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। বিশেষ করে নদী ও সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকা থেকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানায়, সুনামির ঢেউ একাধিকবার আঘাত হানতে পারে, তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত মানুষকে নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানা তায়াকিচি জানান, ভূমিকম্পের পর সরকার জরুরি সংকট ব্যবস্থাপনা টিম গঠন করেছে এবং ক্ষয়ক্ষতির তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর নিশ্চিত হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম এনএইচকে-এর সরাসরি ফুটেজে কিছু বন্দরে বড় ধরনের ক্ষতির চিহ্ন দেখা না গেলেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

জাপান বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ, যা প্রশান্ত মহাসাগরের “রিং অব ফায়ার” অঞ্চলে অবস্থিত। এখানে একাধিক টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থল থাকায় বছরে প্রায় ১,৫০০ বার ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

২০১১ সালের ভয়াবহ ৯ মাত্রার ভূমিকম্প ও সুনামির কথা এখনো জাপানের মানুষের মনে গভীরভাবে গেঁথে আছে, যেখানে প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন এবং ফুকুশিমা পারমাণবিক বিপর্যয় ঘটে।

বিশেষজ্ঞরা জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় নানকাই ট্রেঞ্চ এলাকায় বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর এই ঝুঁকি আরও বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে জাপানজুড়ে নজরদারি ও সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে, যাতে সম্ভাব্য পরবর্তী বিপর্যয় দ্রুত মোকাবিলা করা যায়।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন