Saturday, October 3, 2026

ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৫০০ অভিযান, হুথিদের ১,৫৪০ হতাহত: সেনাবাহিনী


ছবিঃ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর শেষভাগে তাইজ শহরের একটি রাস্তায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকারের নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্য তল্লাশি চৌকিতে দায়িত্ব পালন করছেন; এ সময় হুথি অনুপ্রবেশের বিষয়ে উদ্বেগ বিরাজ করছিল (সংগৃহীত । আল জাজিরা /এএফপি)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | PNN

ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৫০০টি সামরিক অভিযান চালানোর দাবি করেছে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের বাহিনী। এসব অভিযানে ১ হাজার ৫৪০ জন হুথি যোদ্ধা নিহত বা আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী।

শুক্রবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আবদুল্লাহ আল-নাজিলি জানান, দেশের বিভিন্ন এলাকায় হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা, ড্রোন, গোলাবর্ষণ, ক্ষেপণাস্ত্র এবং রকেট লঞ্চার ব্যবহার করা হয়েছে।

সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, এসব অভিযানে সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে তাইজ প্রদেশে। সেখানে সরকারি বাহিনীর অভিযানের কারণে হুথিদের অগ্রযাত্রা থেমে গেছে বলে দাবি করেন আল-নাজিলি। তবে এসব অভিযানে সরকারি বাহিনীর কোনো সদস্য হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য দেননি।

তাইজে নতুন করে সংঘাত তীব্র হয়ে ওঠায় অঞ্চলটি ইয়েমেনের চলমান যুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা তাইজ শহরকে ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সামরিক তৎপরতা বেড়েছে।

এদিকে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে তাইজের গুরুত্বপূর্ণ আল-হুবান ক্রসিং বন্ধ করে দিয়েছে ইয়েমেন সরকার। শনিবার আল জাজিরাকে এ তথ্য জানান সেনাবাহিনীর গণমাধ্যমবিষয়ক কর্মকর্তা আম্মার আল-সামিই।

তিনি জানান, প্রায় নয় বছর বন্ধ থাকার পর মানবিক প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে ২০২৪ সালে বেসামরিক মানুষের চলাচলের জন্য সড়কটি খুলে দেওয়া হয়েছিল। আল-হুবান ক্রসিংটি হুথি নিয়ন্ত্রিত আল-হুবান এলাকা এবং সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা তাইজ শহরের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।

সামিইর দাবি, সড়কটি ব্যবহার করে তাইজে হুথিদের অনুপ্রবেশের চেষ্টা, আশপাশে হামলা এবং সামগ্রিক সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে ক্রসিংটি আবার বন্ধ করা হয়েছে।

ইয়েমেন সরকার ও হুথিদের মধ্যে ২০২২ সালে যে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, তা চলতি বছরের জুলাইয়ে ভেঙে যায়। এরপর থেকে দেশটিতে আবারও সংঘাত উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে হুথিরা পশ্চিম ইয়েমেনের কয়েকটি এলাকায় দ্রুত অগ্রসর হয়ে মোখা বন্দর এবং বাব আল-মান্দাব প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর হুথিবিরোধী বাহিনীগুলো বেশির ভাগ এলাকায় নিজেদের অবস্থান স্থিতিশীল করতে সক্ষম হয়েছে।

নতুন করে লড়াই শুরু হওয়ার পর থেকে ইয়েমেনে কয়েক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে অনেকে দেশটির সংঘাতপূর্ণ এলাকা ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখল করার পর থেকেই ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ চলছে। ওই সময় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার রাজধানী থেকে সরে এডেনে আশ্রয় নেয়। দীর্ঘদিনের এই সংঘাতে দেশটির রাজনৈতিক ও মানবিক সংকট আরও গভীর হয়েছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন