- ০৩ অক্টোবর, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | PNN
ফিলিস্তিনের গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলে একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। শনিবার ভোরে রেমাল এলাকার আল-আসালা ভবনে এ হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে আল-শিফা হাসপাতালের চিকিৎসাকর্মীরা।
আল জাজিরার প্রতিবেদক হানি আল-শায়ের খান ইউনিস থেকে জানান, হামলার আগে বাসিন্দাদের কোনো সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি। গভীর রাতে যখন ভবনের বাসিন্দারা ঘুমিয়ে ছিলেন, তখন হামলাটি চালানো হয়।
প্রতিবেদকের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে যুদ্ধবিমানগুলোর শব্দ ক্রমেই বাড়তে থাকে। এরপর পরপর তিনটি বিস্ফোরণ ঘটে। এতে লক্ষ্যবস্তু করা অ্যাপার্টমেন্টটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বিস্ফোরণের ধাক্কায় ভবনের নিচের কয়েকটি তলাতেও ধ্বংসযজ্ঞ ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনাস্থল থেকে আল জাজিরার আরেক প্রতিবেদক হিন্দ খুদারি জানান, স্থানীয় সময় শনিবার রাত প্রায় ২টার দিকে আল-হাইদ গোলচত্বর এলাকায় দুটি বড় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পরে জানা যায়, একটি ভবনকে দুটি বিস্ফোরক ড্রোন দিয়ে লক্ষ্য করা হয়েছিল।
হামলায় অন্তত তিন নারী, এক শিশু ও এক তরুণ নিহত হয়েছেন বলে তিনি জানান। হামলার পর ভবনটিতে প্রায় এক ঘণ্টা আগুন জ্বলতে থাকে। পরে ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
রেমাল গাজা সিটির ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকাগুলোর একটি। যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত বহু মানুষ এ এলাকার বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী তাঁবু ও আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। হামলার সময় ঘুমন্ত অবস্থায় অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
হামলার পরও ঘটনাস্থলে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছিল। এ সময় এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোনের ওড়াউড়ি এবং যুদ্ধবিমানের নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়ার শব্দ শোনা যাচ্ছিল বলে আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
স্থানীয় সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় গাজায় এটি বিচ্ছিন্ন কোনো হামলার ঘটনা নয়। এর আগে দক্ষিণ গাজায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় এক ফিলিস্তিনি নিহত ও কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
এদিকে, গাজায় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জীবনরক্ষাকারী ওষুধ প্রবেশে বিলম্ব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটি বলেছে, ইসরায়েল থেকে গাজায় প্রয়োজনীয় ওষুধ, কৃত্রিম অঙ্গ ও অন্যান্য চিকিৎসাসামগ্রী পৌঁছাতে বারবার বিলম্ব হওয়ায় গুরুতর স্বাস্থ্যগত সংকট তৈরি হচ্ছে।
গাজার দক্ষিণে মিসরের সীমান্তবর্তী রাফাহ ক্রসিং দিয়ে সীমিতসংখ্যক মানুষকে বের হওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা রোগীরাও রয়েছেন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত উপত্যকাটিতে ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ থাকায় প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত বছরের যুদ্ধবিরতির পরও হামলা অব্যাহত থাকার কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই সময়ের মধ্যে গাজায় আরও ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ৫ হাজার আহত হয়েছেন।