- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর একগুঁয়েমি এবং জনগণের ভোটের রায়কে অস্বীকার করার কারণেই ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠেছিল—এমন মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্য ও অবিচার করা হয়েছিল, যার ফলেই জনগণের ক্ষোভ বিস্ফোরণে রূপ নেয়।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত যুব ম্যারাথনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১৯৬৯ সালের গণ-আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী নির্বাচনের রায় মেনে নেয়নি। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের তাদের ন্যায্য রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়। জনগণের ভোটের মর্যাদা না দেওয়ার এই মানসিকতাই শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের দিকে দেশকে ঠেলে দেয়। তখন ছাত্র, শ্রমিক, কৃষকসহ সর্বস্তরের মানুষ একত্রিত হয়ে দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার আগে যারা বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও মর্যাদাসম্পন্ন রাষ্ট্র গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, স্বাধীনতার পর তারা সেই অঙ্গীকার রক্ষা করেননি। রাষ্ট্রকে জনগণের সম্পদ হিসেবে না দেখে একটি পরিবার ও গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।
আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে জামায়াতের আমির বলেন, উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়ে দেশকে ভয় ও দুঃশাসনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। অল্প সময়ের মধ্যেই সে শাসনের বিরুদ্ধে মানুষের তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। তিনি দাবি করেন, ইতিহাসের কিছু নির্মম ঘটনার দায়ও ওই শাসনের নীতিনির্ধারকদেরই বহন করতে হবে।
১৫ আগস্টের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে শফিকুর রহমান বলেন, অতীত থেকে শিক্ষা না নেওয়ার কারণেই একটি দল বারবার একই পরিণতির মুখোমুখি হয়েছে। খুন, গুম, নির্যাতন ও ভয়ভীতির রাজনীতি শেষ পর্যন্ত জনগণের কাছেই প্রত্যাখ্যাত হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, পুরোনো ও ব্যর্থ রাজনীতিকে পরিত্যাগ করে দেশে নতুন রাজনৈতিক ধারা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ষড়যন্ত্র, কালোটাকা বা কৌশলের মাধ্যমে জনগণকে আর বিভ্রান্ত করা যাবে না। জনগণ এখন সচেতন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে জানে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির বলেন, এই নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তারা যেন নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করে। কোনো দলের প্রতি পক্ষপাত দেখানো হলে তা মেনে নেওয়া হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। যুব ম্যারাথনটি সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ ও সায়েন্স ল্যাব অতিক্রম করে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে গিয়ে শেষ হয়।