Wednesday, July 1, 2026

ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে যুবক নিহত, আহত অন্তত ২০


ছবিঃ নিহত সুমন শেখ (২০) (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ফরিদপুর

ফরিদপুরের ভাঙ্গা হাইওয়ে এক্সপ্রেসওয়েতে দুই পক্ষের বিরোধকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া সংঘর্ষ কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আশপাশের কয়েকটি গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল মহাসড়কে যান চলাচল, চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন এক্সপ্রেসওয়ের এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

নিহত যুবকের নাম সুমন শেখ (২০)। তিনি ভাঙ্গা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের বাসিন্দা এবং মিলন শেখের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, কয়েক মাস আগে কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের এক যুবককে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছিল। পরে বিষয়টি আপস-মীমাংসা হলেও মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উভয় পক্ষের কয়েকজনের মধ্যে আবারও বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যা নামার পর মহাসড়কে টর্চলাইট জ্বালিয়ে দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। পরে সংঘর্ষে আশপাশের অন্তত পাঁচ গ্রামের মানুষ জড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। তবে সংঘর্ষকারীদের ছোড়া ইটপাটকেলে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

এদিকে গুলিবিদ্ধ সুমন শেখের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত সাড়ে ৯টার দিকে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ লোকজন মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে প্রায় তিন ঘণ্টা যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। এতে এক্সপ্রেসওয়ের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং শত শত যাত্রী দুর্ভোগে পড়েন।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে মহাসড়কে সংঘর্ষ চলেছে এবং এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। তিনি জানান, একজন যুবকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ, গুলির উৎস এবং মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন