Wednesday, July 1, 2026

আসমা হত্যা মামলার রায় আবারও পিছাল, নতুন তারিখ ৬ জুলাই


ছবিঃ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্টেট আদালত নোয়াখালী (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। নোয়াখালী

নোয়াখালীর চাটখিলে পাঁচ বছর বয়সী শিশু আসমা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার আলোচিত মামলার রায় ঘোষণার দিন আবারও পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটি নিয়ে তৃতীয়বারের মতো রায়ের তারিখ পরিবর্তন করলেন আদালত। নতুন করে আগামী ৬ জুলাই রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) নোয়াখালীর বিশেষ শিশু ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফারজানা আক্তার এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শুক্লা সাহা।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে বিচারাধীন এ মামলার কার্যক্রম প্রায় চার বছর ধরে চলেছে। এর আগে ২৪ মে রায় ঘোষণার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে ২৪ জুন নির্ধারণ করা হয়। পরে আবার ১ জুলাই তারিখ দেওয়া হলেও সেদিনও রায় ঘোষণা সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ আগামী ৬ জুলাই নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত।

নিহত আসমা আক্তার চাটখিল উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের মেঘা গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা মো. শাহজাহানের মেয়ে। মামলার একমাত্র আসামি শাহাদাত একই গ্রামের বাসিন্দা এবং নিহত শিশুটির জেঠাতো ভাই।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৪ মার্চ নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় আসমা। কয়েকদিন অনুসন্ধানের পর পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে শাহাদাতকে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির পেছনের একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তদন্তে উঠে আসে, ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার আশঙ্কায় শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় এবং পরে মরদেহ গোপন করতে সেপটিক ট্যাংকে ফেলে রাখা হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে এবং বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়।

রায়ের অপেক্ষায় থাকা আসমার বাবা মো. শাহজাহান বলেন, মেয়েকে হারানোর শোক আজও কাটিয়ে উঠতে পারেননি তারা। দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের দিকে তাকিয়ে আছেন। তিনি আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এমন দৃষ্টান্তমূলক বিচার হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ কমবে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শুক্লা সাহা বলেন, রায়ের তারিখ একাধিকবার পরিবর্তন হলেও তারা আদালতের প্রতি আস্থা রাখছেন। আগামী ৬ জুলাই ভুক্তভোগী পরিবার কাঙ্ক্ষিত বিচার পাবে বলেই তাদের প্রত্যাশা।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি সেলিম শাহী বলেন, মামলায় উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও অন্যান্য উপাদান রাষ্ট্রপক্ষের অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আদালত সব দিক বিবেচনা করে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করবেন।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এখন ৬ জুলাইয়ের দিকে তাকিয়ে আছে নিহত আসমার পরিবার। সেই দিনের রায়ের মাধ্যমে বহুল আলোচিত এ মামলার বিচারিক অধ্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিসমাপ্তি ঘটবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন